যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি দেশ মার্কিন নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। মালি ও বুরকিনা ফাসো ইতোমধ্যে মার্কিন নাগরিকদের জন্য পূর্ণ ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা জানিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট করেছে।
চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফ্রিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার মোট ৩৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন। ওই তালিকায় মালি ও বুরকিনা ফাসোর নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় দেশ দুটি ‘পারস্পরিকতার নীতি’ অনুসরণ করে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
মালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র মালির নাগরিকদের ওপর যে শর্ত ও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, একই শর্তে এখন থেকে মার্কিন নাগরিকদের ওপরও তা প্রযোজ্য হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় স্বার্থ ও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই অবস্থান জানিয়েছে বুরকিনা ফাসোও। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারামোকো জ্যাঁ-মারি ত্রাওরে বলেন, বুরকিনা ফাসোর নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার জবাবে তার দেশও মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভিসা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণায় মালি ও বুরকিনা ফাসোর পাশাপাশি লাওস, নাইজার, সিয়েরা লিওন, দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়ার নাগরিকদের ওপর পূর্ণ ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা ভ্রমণ নথিধারীদেরও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দুর্বল যাচাই ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভিসার মেয়াদ অতিক্রমের উচ্চ হার, তথ্য আদান-প্রদানের সীমাবদ্ধতা এবং বহিষ্কৃত নাগরিকদের ফেরত নিতে অনীহার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি দেশে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয় উপস্থিতিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এসব মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারও যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মার্কিন নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজার—এই তিন দেশ বর্তমানে সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে এবং ২০২৪ সালে তারা যৌথভাবে ‘অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস’ গঠন করে।
এছাড়া মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদও গত জুন মাস থেকে মার্কিন নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ রেখেছে, যদিও কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির প্রভাব আফ্রিকার সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩৯টি দেশের নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে পূর্ণ বা আংশিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশ আফ্রিকার।
ডেস্ক রিপোর্ট