ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রোববার রাতে তীব্র শীতের মধ্যে চার বছর বয়সী শিশু আয়শাকে তার ছোট ভাই মোরশেদকে আগলে ধরে রাস্তার পাশে বসে থাকতে দেখেন পথচারীরা। শিশু আয়শার দেওয়া তথ্যমতে, তাদের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার মৌলভীর দোকান এলাকায় এবং তাদের বাবার নাম খোরশেদ আলম ও মায়ের নাম ঝিনুক। আয়শা জানায়, তাদের খালা বাবা-মায়ের কাছ থেকে নিয়ে এসে এখানে রেখে চলে গেছেন। স্থানীয়দের ধারণা, ছোট শিশুটি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী এবং দুই ভাই-বোনই অসুস্থ হওয়ার কারণে চিকিৎসার ব্যয় বা দায়িত্ব এড়াতে স্বজনরা তাদের জনশূন্য স্থানে ফেলে রেখে গেছেন।
তৎক্ষণাৎ মানবিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন স্থানীয় সিএনজিচালক মহিম উদ্দিন। তিনি শিশুদের নিজ বাড়িতে নিয়ে প্রাথমিক আশ্রয় দেন। তার স্ত্রী শারমিন আক্তার জানান, উদ্ধারের সময় শিশুরা অত্যন্ত বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিল। তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে খাবার দেওয়ার পর তারা কিছুটা স্বাভাবিক হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে জানানো হয়। সচরাচর পারিবারিক কলহ বা চরম দারিদ্র্যের কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও, শিশুদের এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে যাওয়াকে আইনত অপরাধ ও চরম নিষ্ঠুরতা হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে তাদের দ্রুত সেফ হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত এবং কেন শিশুদের ফেলে যাওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট