কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে প্রায় ১২ কোটি টাকার দান পাওয়া গেছে। শনিবার সকালে খোলা ১৩টি দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে নিশ্চিত করা হয়। বিপুল অঙ্কের এই দানের সঙ্গে বিদেশি মুদ্রা, সোনা-রূপার গহনা এবং অসংখ্য মানতকারীর চিঠি ও চিরকুটও পাওয়া গেছে।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা ও পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনের উপস্থিতিতে তিন মাস ২৭ দিন পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়। দানবাক্স ও অন্যান্য সামগ্রী ৩৫টি বস্তায় ভরে মসজিদের দোতলায় নিয়ে গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। এতে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় আলেম সমাজ এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ মোট ৪৬০ জন অংশ নেন। পুরো টাকা গণনা করতে সময় লাগে প্রায় পৌনে ১৩ ঘণ্টা।
গণনা শেষে পাওয়া যায় মোট ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এ ছাড়া শুক্রবার পর্যন্ত অনলাইনে দান এসেছে ১২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৪৩ টাকা। দানবাক্সে মার্কিন ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা এবং স্বর্ণ ও রৌপ্য অলংকারও পাওয়া গেছে। এসব মূল্যবান সামগ্রী ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করা হবে।
এর আগে গত ৩০ আগস্ট দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। দান থেকে প্রাপ্ত সব অর্থ রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে মসজিদের সরকারি হিসাবে জমা রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী হারেছী।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক জানান, দানবাক্সের বাইরেও ভক্তরা নিয়মিত গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি, কবুতর, দুধ ও সবজি দান করেন। এসব সামগ্রী প্রতিদিন বিকেলে নিলামে বিক্রি করে ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়। শনিবারের দান যুক্ত না করেও এখন পর্যন্ত মসজিদের হিসাবে মোট জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৪ কোটি টাকা।
এই দানের অর্থ ব্যবহার করে পাগলা মসজিদ প্রাঙ্গণে একটি ১০ তলা মাল্টিপারপাস মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
ডেস্ক রিপোর্ট