শিলিগুড়ির পর্যটন ও আবাসন খাতের এই গুমোট পরিস্থিতি মূলত বৃহত্তর শিলিগুড়ি হোটেল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির একটি সিদ্ধান্তের পর তৈরি হয়েছে। সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের আওতাভুক্ত কোনো হোটেলেই আর বাংলাদেশিদের ঠাঁই দেওয়া হবে না। মূলত গত বছরের শেষ দিক থেকেই বাংলাদেশি পর্যটকদের ব্যাপারে কড়াকড়ি শুরু হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞায় রূপ নিয়েছে। এর ফলে শিলিগুড়ি শহরের ১৮০টি নিবন্ধিত হোটেলসহ মোট ২৩০টি হোটেলে এখন বাংলাদেশিদের প্রবেশাধিকার কার্যত বন্ধ।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও মানবিক দিক বিবেচনা করে শিক্ষার্থী এবং জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে আসা ব্যক্তিদের হোটেলের রুম দেওয়া হতো। তবে এবার সেই ছাড়ও তুলে নিয়েছে ব্যবসায়ী সমিতি। সংগঠনের জয়েন্ট সেক্রেটারি উজ্জ্বল ঘোষ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তারা এই কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন। নেপাল বা ভুটান ভ্রমণে ট্রানজিট হিসেবে যারা শিলিগুড়ি ব্যবহার করতেন কিংবা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসতেন, তারা এখন আশ্রয়হীন অবস্থায় মানবেতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক কারণে শিলিগুড়ি শহরটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি এই শহর হয়ে যাতায়াত করেন। কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে ব্যবসায়ীদের এমন একতরফা সিদ্ধান্ত দুই দেশের জনগণের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব সাধারণ পর্যটক বা মুমূর্ষু রোগীদের ওপর পড়াটা দুঃখজনক।
ডেস্ক রিপোর্ট