চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজাজুড়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব অভিযানে কমপক্ষে একজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং এক শিশুসহ আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় ও চিকিৎসা সূত্র। গাজার বিভিন্ন এলাকায় এই হামলার ঘটনাকে যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) উত্তর গাজার জাবালিয়া, গাজা সিটি, খান ইউনিস ও রাফাহ এলাকার বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি বাহিনী হামলা চালায়। গাজা কর্তৃপক্ষের দাবি, সেনা প্রত্যাহার করা এলাকা এবং তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর ভেতরেও এসব হামলা হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির শর্তের পরিপন্থী।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর গাজার জাবালিয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে আইয়ুব আবদেল আয়েশ নাসর নামে এক ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং আরও দুজন আহত হন। একই দিনে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে চিকিৎসা সূত্র জানায়, খান ইউনিসের কাছে পৃথক এক ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন আহত হয়েছেন। এছাড়া গাজার মধ্যাঞ্চলের মাগাজি শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি হামলায় এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি অভিযানে ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অপরদিকে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে অন্তত ৮৭৫ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।
এদিকে রাফাহ এলাকায় এক বিস্ফোরণে এক ইসরাইলি কর্মকর্তা আহত হওয়ার ঘটনায় হামাসকে দায়ী করেছে তেল আবিব। এ প্রসঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, হামাস নিরস্ত্রীকরণের কোনো সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না। তবে হামাস পাল্টা বিবৃতিতে বলেছে, ওই বিস্ফোরণটি পুরোনো অবিস্ফোরিত বোমা থেকে ঘটেছে এবং সংগঠনটি এখনও যুদ্ধবিরতিতে অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান অভিযোগ করেছেন, ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। তিনি বলেন, তুরস্ক শান্তির পক্ষে থাকলেও অন্যায়ের সঙ্গে কোনো আপস করবে না। একই দিনে আঙ্কারায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে হামাসের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়, যেখানে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ ও গাজায় মানবিক সহায়তা প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট