হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সেভওয়ারেদেঙ্কো জানান, রাশিয়া এই অভিযানে প্রায় ৬৩৫টি ড্রোন এবং ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ‘কিনঝাল’ ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল। ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করলেও, বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম হয়। এর ফলে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করেছে। এছাড়া এদিন তারা দেনিপ্রোপেট্রোভস্ক ও খারকিভ অঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবিও করেছে।
এই হামলার ঠিক একদিন আগে, সোমবার (২২ ডিসেম্বর) মস্কোতে এক ভয়াবহ গাড়িবোমা বিস্ফোরণে রুশ জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফানিল সারভারভ নিহত হন। রাশিয়ার তদন্ত সংস্থাগুলোর প্রাথমিক ধারণা, ইউক্রেনের গোয়েন্দা বাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে। মস্কোর সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ইউক্রেনে এই বিশাল পরিসরের সামরিক অভিযান শুরু হলো। ইউক্রেনীয় সরকারের দাবি, যুদ্ধের অবসান নিয়ে যখন বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই রাশিয়া এমন হামলা চালিয়ে আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
বর্তমানে ইউক্রেনের একাধিক অঞ্চলে হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা বিরাজ করছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জরুরি সেবা সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ ও মেরামত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিসমাসের ঠিক আগে রাশিয়ার এই ধারাবাহিক হামলা ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
(সূত্র: সিবিএস নিউজ, আল জাজিরা ও রয়টার্স)
ডেস্ক রিপোর্ট