শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চল: জনজীবনে চরম ভোগান্তি
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২৩-১২-২০২৫ ১০:৩৮:০৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৩-১২-২০২৫ ১০:৩৯:০৯ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৬২ বার পঠিত
ছবি-সংগৃহীত
দেশের উত্তরাঞ্চল জুড়ে জেঁকে বসা তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার দাপটে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। রংপুর বিভাগসহ আশপাশের জেলাগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে চলমান মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে বিপাকে পড়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। দিনের অনেকটা সময় সূর্যের দেখা না মেলায় এবং হিমেল বাতাসের কারণে হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে, যা বিশেষ করে শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ নিয়ে এসেছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৪
ভৌগোলিক অবস্থান ও হিমালয়ের পাদদেশের নিকটবর্তী হওয়ায় প্রতি বছরই এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেশি থাকে। চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, নীলফামারী, দিনাজপুরসহ উত্তরের আট জেলায় ভোরের আলো ফোটার আগেই চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৯ শতাংশে পৌঁছানোয় কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, ফলে দিনের বেলাতেও যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
তীব্র এই শীতের সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর। রিকশাচালক ও দিনমজুরদের আয় কমে যাওয়ায় তারা পরিবার নিয়ে সংকটে পড়েছেন। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে অনেক জায়গায় মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, বাজারে পুরোনো শীতের কাপড়ের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য গরম কাপড় কেনাও এখন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতকালীন রোগব্যাধি। হাসপাতালগুলোতে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে অনেক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। চিকিৎসকরা এই আবহে শিশু ও বৃদ্ধদের বাড়তি যত্নে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আর্দ্রতার আধিক্যের কারণে কুয়াশা কাটতে বিলম্ব হতে পারে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিন এই আবহাওয়া অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।