পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) বিশেষ আদালত এই সাজাকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। প্রথমত, রাষ্ট্রীয় আমানতে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দ্বিতীয়ত, দুর্নীতিবিরোধী আইনের আওতায় আরও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এই দম্পতিকে বিপুল অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমানে জমি সংক্রান্ত অন্য একটি মামলায় ১৪ বছরের সাজা খাটছেন ইমরান খান। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, চলমান ১৪ বছরের সাজা শেষ হওয়ার পরই নতুন করে দেওয়া এই ১৭ বছরের কারাদণ্ড কার্যকর শুরু হবে।
মামলাটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের দেওয়া অত্যন্ত দামী কিছু বিলাসবহুল ঘড়ি। প্রসিকিউশনের দাবি, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এই উপহারগুলো তোশাখানায় জমা দিলেও পরবর্তীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইমরান ও তার স্ত্রী নামমাত্র মূল্যে সেগুলো কিনে নেন, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি করেছে। তবে পিটিআই মুখপাত্র জুলফি বুখারি এই রায়কে ‘ফরমায়েশি’ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাবি, বিবাদী পক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়েই আদালত তড়িঘড়ি করে এই সাজা ঘোষণা করেছেন।
ইমরান খান বরাবরই তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আসছেন। ২০২২ সালের মার্চে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তার ওপর একের পর এক আইনি খড়গ নেমে আসে। এই রাজনৈতিক পালাবদলের পেছনে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ থাকার অভিযোগও বেশ জোরালো। বিশেষ করে ‘দ্য ইন্টারসেপ্ট’-এ প্রকাশিত একটি গোপন নথি অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা ডোনাল্ড লু ও পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়ে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইমরান খানের নিরপেক্ষ অবস্থান এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ওয়াশিংটনের অসন্তোষই এই পরিস্থিতির নেপথ্য কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ডেস্ক রিপোর্ট