ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ধাক্কায় সাতটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রেনটির পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হলেও কোনো যাত্রীর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ২টা ১৭ মিনিটে আসামের হোজাই জেলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নয়াদিল্লিগামী যাত্রীবাহী ট্রেনটি গভীর রাতে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের লামডিং ডিভিশনের যমুনামুখ–কামপুর সেকশন অতিক্রম করার সময় বুনো হাতির একটি পালের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।
কর্মকর্তারা জানান, ট্রেনটি দ্রুতগতিতে চলছিল এবং হঠাৎ করে হাতির পাল রেললাইনে উঠে এলে চালকের পক্ষে ট্রেন থামানো সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পালে অন্তত ১১ থেকে ১২টি হাতি ছিল।
আসামের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ভিভি রাকেশ রেড্ডি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, দুর্ঘটনায় একটি শাবকসহ সাতটি হাতি ঘটনাস্থলেই মারা গেছে এবং আরও একটি হাতি গুরুতর আহত হয়েছে।
ভারতীয় রেলওয়ের মুখপাত্র কপিঞ্জল কিশোর শর্মা বলেন, বন্যপ্রাণীর চলাচল বিবেচনায় রেখে ‘হাতির করিডোর’ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ দুর্ঘটনাটি এমন একটি স্থানে ঘটেছে, যা সরকারিভাবে ঘোষিত এলিফ্যান্ট করিডরের বাইরে।
প্রসঙ্গত, ভারতে আনুমানিক ২২ হাজার বন্য হাতি রয়েছে, যার মধ্যে আসামেই বসবাস করে চার হাজারের বেশি। দেশটিতে রেলপথ সম্প্রসারণের ফলে ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যুর ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। ভারতের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে আসামসহ বিভিন্ন রাজ্যে ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৭৯টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট