রাশিয়ার সদ্যউন্নত হাইপারসনিক ও পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেশনিক’ বেলারুশের মাটিতে মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো। এই মোতায়েনকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চতুর্থ বছরে প্রবেশের প্রহরগণনার সময় ইউরোপজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়ানোর মতো একটি সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বেলারুশের প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) জানিয়েছেন, রাশিয়ার তৈরি নবনির্মিত হাইপারসনিক ও পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেশনিক’ ইতোমধ্যে দেশটিতে পৌঁছেছে এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, গতকাল থেকেই এই ক্ষেপণাস্ত্র বেলারুশে মোতায়েন রয়েছে এবং এটি এখন পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতিতে রয়েছে।
এই ‘ওরেশনিক’ একটি মধ্যম-পাল্লার হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা প্রচলিত ও পারমাণবিক উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পূর্বেও দাবি করেছেন, এ ক্ষেপণাস্ত্রের একাধিক ওয়ারহেড শব্দের গতির প্রায় ১০ গুণ বেগে নেমে আসতে পারে এবং এটিকে আটকানো অত্যন্ত কঠিন। রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপের বেশ কিছু কৌশলগত স্থানে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পৌঁছাতে সক্ষম।
গত বছর ইউক্রেনের দনিপ্রো শহরে হামলায় ‘ওরেশনিক’ ব্যবহার করার পর অস্ত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে রাশিয়া। তখনই চলমান সংঘাতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহারকে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন পশ্চিমা বিশ্লেষকরা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন চতুর্থ বছরে গড়াতে চলেছে, এমন প্রেক্ষাপটে এই নতুন মোতায়েনকে অনেকেই মস্কোর কৌশলগত বার্তা হিসেবে দেখছেন।
বেলারুশ রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার সূচনালগ্ন থেকেই মস্কোর পাশে রয়েছে এবং সে সময়ও ইউক্রেনে আক্রমণে রুশ বাহিনী বেলারুশের ভূখণ্ড ব্যবহার করেছিল। দেশটি আগে থেকেই রুশ ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র রাখার অনুমতি দিয়েছে এবং চলতি বছর যৌথ ‘জাপাদ–২০২৫’ সামরিক মহড়ায় ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের অনুশীলনের ঘোষণা দিয়েছিল মিনস্ক।
ডেস্ক রিপোর্ট