পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরের কাশিমপুর নিমতলা তিন রাস্তার মোড়ের একটি দোকানের সামনে থেকে মোতালেব সিকদার নামে ওই বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের বকচর গ্রামের বাসিন্দা এবং শাহাজদ্দিন সিকদারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরের দিকে একটি অটোরিকশায় করে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি লাশটি এনে দোকানের দেয়ালের সঙ্গে বসানো অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায়। প্রথমে স্থানীয়রা ভেবেছিলেন কেউ হয়তো বসে বা ঘুমিয়ে আছেন। পরে কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আশপাশের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রিকশাচালক জানান, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে তিনি ওই বৃদ্ধকে একই জায়গায় পড়ে থাকতে দেখেন, কয়েকবার যাতায়াতের পর সন্দেহ হলে স্থানীয়দের জানান।
মৃতের ছেলে সুমন সিকদার জানান, তার বাবা কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং এলাকায় কুলির কাজ করতেন। রোববার সন্ধ্যায় একটি বাড়ি থেকে ভরা গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে খালি সিলিন্ডার ফেরত দিতে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেননি। সারা রাত খোঁজাখুঁজির পর সকালে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে তারা শনাক্ত করেন। পরিবারের কোনো শত্রুতা নেই উল্লেখ করে তিনি শ্বাসরোধে হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলম বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে একই দিনে দোহার উপজেলার সুতারপাড়া এলাকায় হাসিনা (৪৫) নামে এক নারী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি আ. লতিফের স্ত্রী এবং দুই ছেলে ও এক মেয়ের মা। পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সোমবার সকালে ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘরের আঁড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দীক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট