সোমবার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, মক্কা অঞ্চলে খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) পরিবেশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এএফপির হিসাব অনুযায়ী, এই তিনটি মৃত্যুদণ্ড যুক্ত হওয়ার পর চলতি বছরে সৌদি আরবে মোট ৩৪০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো।
পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যায় সৌদি আরবের চেয়ে বেশি সংখ্যা কেবল চীন ও ইরানে দেখা গেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ১৯৯০-এর দশক থেকে মৃত্যুদণ্ডের তথ্য নথিবদ্ধ করা শুরু করার পর থেকেই সৌদি আরবে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ সংখ্যার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর আগের বছর, ২০২৪ সালে দেশটিতে মোট ৩৩৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল।
এএফপির বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরে কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডের বড় অংশই মাদক-সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে যুক্ত। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মাদক অপরাধে ২৩২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা মোট মৃত্যুদণ্ডের উল্লেখযোগ্য অংশ। এই হিসাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এসপিএ প্রকাশিত সরকারি ঘোষণার ভিত্তিতে তৈরি।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালে শুরু হওয়া সৌদি আরবের তথাকথিত ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’-এর সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ঊর্ধ্বগতি সরাসরি সম্পর্কিত। ওই সময় বহু অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রায় তিন বছর বিরতির পর ২০২২ সালের শেষ দিকে সৌদি আরব মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে আবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু করে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব ক্যাপটাগনের অন্যতম বড় বাজার। এই অবৈধ উত্তেজক মাদকটি একসময় সিরিয়ার সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য ছিল, যা বাশার আল-আসাদের শাসনামলে বিস্তার লাভ করে। আসাদ গত বছর ক্ষমতাচ্যুত হন।
ডেস্ক রিপোর্ট