ঘন কুয়াশা ও বায়ু দূষণে দিল্লিতে ফ্লাইট বিপর্যয়, বিলম্বিত হলো প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশযাত্রা
- আপলোড সময় : ১৫-১২-২০২৫ ০৯:১০:৫৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-১২-২০২৫ ০৯:১০:৫৩ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪১ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
ঘন কুয়াশা ও তীব্র বায়ু দূষণের কারণে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৃশ্যমানতা বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩০০টির বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্ধারিত বিদেশ সফরেও; তার বিশেষ বিমান নির্ধারিত সময়ে উড্ডয়ন করতে পারেনি।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রীর জর্ডান সফরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। তবে ভোর থেকেই দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় ঘন কুয়াশা ও ধোঁয়ার আস্তরণে আকাশ ঢেকে যায়। দৃশ্যমানতা এতটাই কমে যায় যে দিনের আলো থাকলেও চারপাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। নিরাপত্তাজনিত কারণে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল মোদির ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বিমানে ওঠেন।
জানা গেছে, ১৫ থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত জর্ডান, ইথিওপিয়া ও ওমান সফরের সূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ভারত-জর্ডান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর আমন্ত্রণে প্রথমে সেখানে যাচ্ছেন তিনি। সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা রয়েছে। তবে সফরের শুরুতে বিলম্ব হওয়ায় কূটনৈতিক মহলেও বিষয়টি নজরে এসেছে।
ভারতের সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের (CPCB) তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টায় দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ছিল ৪৫৬, যা ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ শ্রেণিভুক্ত। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪ জানায়, এদিন সকালে ৩০০টির বেশি ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হয় এবং অন্তত ৪০টি ফ্লাইট অবতরণে বিলম্ব ঘটে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, কুয়াশার সঙ্গে অতিরিক্ত দূষণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বাতাসে সূক্ষ্ম ধূলিকণার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শুধু দৃশ্যমানতা নয়, উড়ান পরিচালনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনেক ফ্লাইটকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগোসহ বিভিন্ন বিমান সংস্থা যাত্রীদের ফ্লাইট বিলম্বের বিষয়ে সতর্ক করেছে এবং বাড়তি সময় নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছে।
বিমান চলাচলের পাশাপাশি রেল যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে। কম দৃশ্যমানতার কারণে দিল্লিতে আগমন ও প্রস্থানকারী ৯০টির বেশি ট্রেন ছয় থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত হয়েছে। শহরের রাস্তাঘাটে যান চলাচল অত্যন্ত ধীরগতির হয়ে পড়েছে, অনেক জায়গায় দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় দিল্লি সরকার সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত (দশম শ্রেণি ব্যতীত) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে হাইব্রিড পদ্ধতিতে সরাসরি ও অনলাইন ক্লাস পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।