সিরিয়ার পালমিরা এলাকায় আইএসআইএসের অতর্কিত হামলায় দুই মার্কিন সেনা এবং এক মার্কিন দোভাষী নিহত হয়েছেন; এ হামলায় আরও তিন মার্কিন সেনা আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। শনিবার স্থানীয় সময় এই হামলাটি হয়, যখন মার্কিন ও সিরীয় সেনাদের একটি যৌথ টহল দল পালমিরা অঞ্চলে নেতৃত্বস্থানীয় এক কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ–সংক্রান্ত মিশনে ছিল।
সেন্টকমের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, একমাত্র একজন সশস্ত্র আইএস গুণ্ডা হঠাৎ গুলি চালিয়ে এই হামলা চালায় এবং ঘটনাস্থলেই পাল্টা গুলিতে নিহত হয়; তাকে পার্টনার ফোর্স বা যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ‘নিরস্ত’ করেছেন বলে জানান মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মার্কিন সেনাদের নিহত হওয়ার খবর পরিবারদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হওয়া পর্যন্ত তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হবে না বলে পেন্টাগন জানিয়েছে; তবে হামলায় আহতদের হেলিকপ্টারে সিরিয়ার আল-তানফ ঘাঁটিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন দূত টম ব্যারাক বলেন, হামলাটি মার্কিন ও সিরীয় সেনাদের একটি যৌথ টহল গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে এবং এটি চলমান আইএস-বিরোধী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত মিশনের সময় ঘটে। পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলটি সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বাইরে হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা শূন্যতা থাকতেই পারে, যা আইএস গোষ্ঠী কাজে লাগিয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা।
এই হামলা সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক সময়ে আইএসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী আক্রমণগুলোর একটি এবং গত বছর বাশার আল–আসাদ অপসারণের পর মার্কিন বাহিনীর প্রথম নিহতের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন থেকে হোয়াইট হাউস ও সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং আইএসের পুনরুত্থান ঠেকাতে অঞ্চলটিতে যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট