গাজায় ভারী বৃষ্টিপাত ও তীব্র ঠান্ডায় বিপর্যয়, নিহত ১৪
- আপলোড সময় : ১৩-১২-২০২৫ ১০:০৪:৫৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৩-১২-২০২৫ ১০:০৪:৫৯ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩২ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
গাজার উপত্যকায় ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা এবং তীব্র ঠান্ডায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছেন। শীতকালীন ঝড় ‘বায়রন’-এর প্রভাবে গত ২৪ ঘন্টায় সৃষ্ট এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির জীবন ও অবকাঠামোর উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
ফিলিস্তিনের স্বরাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার ভোর থেকে একটানা বৃষ্টিপাতে গাজার একাধিক আশ্রয় শিবির প্লাবিত হয়েছে। এতে ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের দুই বছরের গণহত্যার কারণে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৭ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ আরও বিপর্যস্ত হয়েছেন।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসে বৃষ্টির পানিতে আটকা পড়ে রাহাফ আবু জাজার নামের আট মাসের শিশু মারা গেছে। এছাড়া গাজা শহরের পশ্চিমে আল-শাতি শরণার্থী শিবিরে শিশু তাইম আল-খাজা এবং একটি স্কুলে আশ্রয় নেওয়া ৯ বছর বয়সী হাদিল হামদান তীব্র ঠান্ডায় মারা গেছেন।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা কতৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড় বায়রন আশ্রয়কেন্দ্র ও বাড়িঘরে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। অনেক ভবন আগের ইসরায়েলি আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ধসে পড়েছে, এতে কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। গাজা শহরের বেইত লাহিয়ায় একটি ভবন ধসে পাঁচজন, আর রেমাল এলাকার একটি তাঁবুতে দেয়াল ধসে দুইজন মারা গেছেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) জানিয়েছে, শত শত আশ্রয় শিবির প্লাবিত হয়েছে এবং আগামী কয়েক ঘন্টা ধরে বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর IOM ১০ লাখের বেশি আশ্রয় সামগ্রী সরবরাহ করেছে, তবে এসব সরবরাহ বন্যা সহ্য করতে পারবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে।
IOM-এর মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, “গাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতি ও ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এই ঝড়ের পর পরিবারগুলো সীমিত সম্পদ দিয়ে সন্তানদের রক্ষা করতে চেষ্টা করছে। জরুরি সরঞ্জাম ও খাদ্য সরবরাহ অত্যাবশ্যক।”
প্যালেস্টাইন হাউজিং কাউন্সিলের জরুরি ও ত্রাণ দলের প্রধান হাইথাম আকেল বলেন, “বেশ কিছু অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা বালির ব্যাগ ব্যবহার করে নিষ্কাশন ব্যবস্থা চেষ্টা করেছি, কিন্তু পুরনো তাঁবুতে পানি প্রবেশের কারণে মানুষের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
ফিলিস্তিনি মেডিকেল রিলিফ সোসাইটি জানিয়েছে, বৃষ্টিতে কমপক্ষে চারটি মেডিকেল পয়েন্ট প্লাবিত হয়েছে, যার ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।