স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বছরের শুরু থেকেই একাধিক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি কয়েক দফায় ওষুধের দাম বাড়িয়েছে। এর ফলে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল ও আশপাশের ফার্মেসিগুলোতে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দাম নিয়ে প্রায়ই উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসা চালিয়ে নিতে গিয়ে অনেক পরিবারকে বিকল্প পথ বেছে নিতে হচ্ছে অথবা ওষুধের মাত্রা কমাতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, রোগী ও ওষুধ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্কয়ার, বেক্সিমকো, ইনসেপ্টা, রেডিয়েন্ট, এসিআই, পপুলার ও এসকেএফসহ বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানির ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে ব্যথানাশক একটি ট্যাবলেটের দাম আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের ওপর বেশি। কালাই উপজেলার এক ডায়াবেটিস রোগী জানান, নিয়মিত ইনসুলিন নিতে গিয়ে মাসিক খরচ কয়েক হাজার টাকা বেড়ে গেছে, যা তার পক্ষে বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একইভাবে ক্যান্সারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও ইনজেকশনের দাম বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা ধারাবাহিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্বজনদের।
ফার্মেসি মালিকদের দাবি, কোম্পানিগুলো যেভাবে দাম বাড়াচ্ছে, তাতে তাদেরও বিব্রত হতে হচ্ছে। তারা জানান, নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রির সুযোগ নেই, ফলে রোগীর স্বজনদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অনেক বিক্রেতা জানান, অতীতে দাম বাড়লেও এবার তা তুলনামূলক বেশি ও দ্রুত হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, রোগীদের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে ওষুধের উচ্চমূল্য অনেক সময় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এদিকে জেলা ওষুধ পরিদর্শক জানান, ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ানোর সুযোগ সীমিত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দ্রুত কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না এলে রোগী ও তাদের পরিবারগুলোর ওপর এর সামাজিক ও মানবিক প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট