যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) নতুন করে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, আদালত যদি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার শীর্ষ দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো তদন্তের উদ্যোগ নেয়, তবে আইসিসির ওপর সরাসরি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ওয়াশিংটন গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরাইলি নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট পুরোনো তদন্তও বন্ধ করার দাবি তুলেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র আইসিসিকে তাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি হস্তক্ষেপকারী হিসেবে দেখে আসছে। এবার আদালতের প্রতিষ্ঠা দলিলে সংশোধন এনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো তদন্ত না করার গ্যারান্টি চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এমন পরিবর্তন আনতে হলে আইসিসির সদস্য ১২৫ দেশের দুই-তৃতীয়াংশের সম্মতি লাগবে, যা বিশ্লেষকদের মতে অত্যন্ত কঠিন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানা না হলে আইসিসির আরও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে, এমনকি পুরো আদালতকেই আর্থিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে। এতে আদালতের দৈনন্দিন কার্যক্রম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং লেনদেন পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
চলতি বছরে আইসিসির নয়জন কর্মকর্তা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন। তাই নতুন নিষেধাজ্ঞা দিলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও সংকটে পড়তে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিবীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক অভিযানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে নিহতের অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেসেও তদন্ত শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা, ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হলে ২০২৯ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক তদন্তের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট