উপজেলা প্রশাসনের সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা ভয় ও দ্বিধা দূর করাই ছিল ইউএনও সুজন চন্দ্র রায়ের এই অভিনব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সরকারি কার্যালয়ের দরজা ডিঙাতে না পারা এবং দালালদের খপ্পরে পড়ে হয়রানির শিকার হওয়ার মতো প্রচলিত সমস্যাগুলো যেখানে দেশের অধিকাংশ স্থানে বিদ্যমান, সেখানে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় এর উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাইয়ুম বাবু জানান, এই বার্তা উপজেলায় সেবা নিতে আসা মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়িয়েছে এবং এটি উপজেলার ইতিহাসে ইউএনও সুজন চন্দ্র রায় কর্তৃক নেওয়া একটি প্রশংসনীয় ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। চৌয়ারা ইউনিয়নের পিপুলিয়া এলাকার সাখাওয়াত হোসেনও ইউএনওর অল্প দিনের কার্যকালে জনগণের ভালোবাসা অর্জনকে 'বিরল' বলে মন্তব্য করেন এবং তাঁর মতো ভালো কর্মকর্তার কারণেই দেশ উন্নতির শিখরে আরোহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন চন্দ্র রায় তার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, “মানুষের সেবা করার জন্যই সরকার আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন। আমার এখানে আসতে অনুমতি লাগবে কেন?” তিনি যোগ করেন যে, অনেকেই অফিসে জুতা খুলে প্রবেশ করতেন, যা দেখে তিনি ব্যথিত হয়েছেন। সেই ভুল ধারণা দূর করতেই তিনি নেমপ্লেটের পাশে 'জুতাসহ প্রবেশ করুন' কথাটি লিখে দিয়েছেন, যাতে সবাই নির্দ্বিধায় তার কাছে আসতে পারেন।
এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপে উপজেলায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেছে এবং প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের সরাসরি যোগাযোগের পথ সুগম হয়েছে, যা ইউএনও সুজন চন্দ্র রায়কে সর্বমহলে প্রশংসিত করেছে।