পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের সূচনা হয় সকাল ৯টার দিকে ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের পেছনের সড়কে। সেখানে ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী লাঠিসোটা হাতে আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। খবর পেয়ে নিউমার্কেট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দুই কলেজের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। প্রাথমিক ঘটনা সামাল দিতে গিয়ে আইডিয়াল কলেজের এক শিক্ষার্থীকে থানায় নেওয়া হলেও পরে তাকে অধ্যক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তবে এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। সায়েন্সল্যাব মোড়ের কাছে ঢাকা কলেজের একটি বাসে আইডিয়াল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে, যাতে ঢাকা কলেজের কয়েকজন ছাত্র আহত হন। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা কলেজের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে আইডিয়াল কলেজের সামনে জড়ো হয় এবং কলেজটির শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।
এরপর দুই কলেজের শিক্ষার্থীরা ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংঘাত থামাতে বাধ্য হয়ে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালে একজন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যও আহত হন।
এই দুই কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায়শই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের সৃষ্টি হয়, যার কারণে ধানমন্ডির মিরপুর সড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য গত ৯ নভেম্বর দুই কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর সংঘর্ষ না করার অঙ্গীকারে 'শান্তি চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু এক মাসের মাথায় সেই চুক্তি ভঙ্গ করে শিক্ষার্থীরা আবার সংঘর্ষে জড়ালেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা সেন্ট্রাল রোডে জড়ো হয়ে আছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট