মোহাম্মদপুরে মা–মেয়েকে গলা কেটে হত্যা, স্কুল ড্রেস পরে পালালেন গৃহকর্মী আয়েশা
- আপলোড সময় : ০৮-১২-২০২৫ ০৮:০৪:৫৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-১২-২০২৫ ০৮:০৮:৩৯ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪৬ বার পঠিত
প্রতীকী ছবি
মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি ফ্ল্যাটে স্কুলশিক্ষক এ জেড আজিজুল ইসলামের স্ত্রী লায়লা আফরোজ (৪৮) ও নবম শ্রেণির ছাত্রী মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) গলা কেটে হত্যার পর পরিবারের খণ্ডকালীন গৃহকর্মী আয়েশা স্কুল ড্রেস পরে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্বজনেরা। চার দিন আগে কাজ নিলেও ঘটনার পর থেকে আয়েশা পলাতক, তাকে গ্রেফতারে একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশি চালাচ্ছে।
সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতো বাসা থেকে বেরিয়ে কর্মস্থলে যান আজিজুল; বেলা ১১টার দিকে ফিরে কলিং বেল চাপলেও সাড়া না পেয়ে নিজস্ব চাবি দিয়ে দরজা খুলে দেখেন, ফ্ল্যাটের ড্রয়িং ও ডাইনিং রুমের ফ্লোর এবং করিডরে ছোপ ছোপ রক্ত, দরজার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েকে পড়ে থাকতে এবং রান্নাঘরসংলগ্ন করিডরে স্ত্রীর গলাকাটা মরদেহ। গুরুতর আহত নাফিসাকে প্রতিবেশীদের সহায়তায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন; দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান ও ডিবি কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে রান্নাঘরের দিক থেকে ধারালো ছুরি দিয়ে হামলা চালানো হয় এবং ফ্ল্যাটের ভেতর দেয়াল–মেঝেতে রক্তের ফিনকি ছড়িয়ে আছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সকাল সাতটার পর কালো বোরকা পরে ভবনে প্রবেশ করা আয়েশা বেরিয়ে গেছেন সাড়ে ৯টার দিকের ফুটেজে, তখন তার গায়ে ছিল নাফিসার স্কুলের ড্রেস এবং কাঁধে ছিল একটি ব্যাগ; বের হওয়ার সময় নিরাপত্তা প্রহরীদের কাছে নিজেকে অতিথি হিসেবে পরিচয় দেন তিনি।
নিরাপত্তা প্রহরী ইসমাইল হোসেনের ভাষ্য, একই ভবনের আরেক প্রহরী খালেক চার দিন আগে আয়েশাকে গৃহকর্মী হিসেবে ওই ফ্ল্যাটে পরিচয় করিয়ে দেন; ঘটনার পর খালেককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তদন্তকারীরা বলছেন, আয়েশা বাসা থেকে কিছু মূল্যবান মালামালও নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কী কী নেওয়া হয়েছে তা স্বজনদের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে এবং সিসিটিভি বিশ্লেষণ ও রিকশাচালক শনাক্তের মাধ্যমে তার গতিপথ অনুসন্ধান চলছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।