ভারতীয় রুপি বর্তমানে তার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রুপি ৮৮.৮০-এর গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক স্তর ধরে রাখতে পারলেও, সম্প্রতি সেই স্তর ভেঙে দিয়ে দ্রুত পতন শুরু হয়। বুধবার রুপি ৯০-এর মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করার পর বৃহস্পতিবার রুপির দুর্বলতা আরও প্রকট হয়। এদিন লেনদেনের শুরু থেকেই রুপির দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায় এবং দিনের শেষে মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার মূল্য ২৩ পয়সা কমে গিয়ে নতুন রেকর্ড নিম্নস্তরে পৌঁছে যায়। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯০.৪২ রুপি।
এই লাগামহীন পতনের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভারতের আর্থিক বাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজি প্রত্যাহার (Capital Outflow)। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে বিনিয়োগকারীরা ভারত থেকে তাদের পুঁজি তুলে নিচ্ছেন, যা সরাসরি রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
রুপির এই অবমূল্যায়ন ঠেকাতে নড়েচড়ে বসেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)। ব্লুমবার্গ রিপোর্ট অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ মুদ্রার অবচয় নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বাজারে হস্তক্ষেপ করে ডলার বিক্রি করেছে। মুদ্রার সরবরাহ বাড়িয়ে চাহিদা কমানোর মাধ্যমে মূল্য স্থিতিশীল রাখার এটি একটি প্রচলিত পদ্ধতি। তবে এতদসত্ত্বেও, বাজার থেকে পুঁজি প্রত্যাহার এবং শক্তিশালী ডলারের চাপের কারণে রুপির পতন থামানো সম্ভব হয়নি।
বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই লাগাতার দরপতন ভারতের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা বাণিজ্য ঘাটতি বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, রপ্তানিকারকরা সাময়িকভাবে লাভবান হলেও সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন পুরো দেশ নজর রাখছে।
ডেস্ক রিপোর্ট