ভারতের ওড়িশা রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের এক মুসলিম যুবককে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে মারধর এবং জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান বলানো হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। ২৪ বছর বয়সী রাহুল ইসলাম মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়া থানার বাসিন্দা। বিছানার চাদর ও শীতের পোশাক ফেরি করতে গিয়ে ওড়িশার গঞ্জাম জেলার রানীপাড়া গ্রামে এ ঘটনার শিকার হন তিনি, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিযায়ী শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাহুলের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি আধার কার্ড দেখান। কিন্তু কিছু গ্রামবাসী পরিচয়পত্রটিকে ‘ভুয়া’ দাবি করে তাকে “বাংলাদেশি” ও “রোহিঙ্গা” বলে অভিযুক্ত করেন। এরপর প্রায় ২৫–৩০ জন একত্র হয়ে তাকে চড়, থাপ্পড়, লাঠিসহকারে মারধর করে ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘ভারতমাতা কি জয়’ বলতে বাধ্য করে। একটি ভিডিওতেও দেখা যায়, নির্যাতনের মধ্যেই রাহুলকে এসব স্লোগান বলতে হচ্ছে। তার সহযাত্রী মাইনুল সরকার জানান, স্লোগান দেওয়ার পরও হামলা বন্ধ হয়নি।
পরদিন অভিযোগ জানাতে স্থানীয় থানায় গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে দাবি করেছেন রাহুলের সঙ্গীরা। তবে স্থানীয় ওসি জানিয়েছেন, তিনি এ ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য পাননি। রাহুলকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, এবং শারীরিক আঘাতের কারণে তিনি ও তার সঙ্গীরা মুর্শিদাবাদে ফিরে গেছেন।
পরিযায়ী শ্রমিকদের সংগঠনগুলো বলছে, ওড়িশায় সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের পরিচয় যাচাইয়ের নামে ব্যাপক আটক এবং হয়রানির ঘটনা বাড়ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ দিনে অন্তত ৩০০ জনকে আটক করে বিভিন্ন সময় ধরে রাখা হয়েছে, যাদের অনেকেই বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন। তারা বলছে, পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়ায় পুলিশ এবং কিছু হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরা একসঙ্গে অংশ নিচ্ছেন, যা নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
ওড়িশার বিভিন্ন জেলার পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ শনাক্ত করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং পরিচয় নিশ্চিত হলে শ্রমিকদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে সংগঠনগুলোর দাবি, আদালতে পেশ না করে শ্রমিকদের দীর্ঘ সময় আটক রাখা আইনবিরোধী।
ঘটনা নিয়ে জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন এবং মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছে। একই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ওড়িশা পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বারবার পরিযায়ী শ্রমিকদের আটক করা এবং শারীরিকভাবে হেনস্তার এই প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, বিশেষ করে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে।
ডেস্ক রিপোর্ট