ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই ঢাকায় ও ভোলায় নানান কর্মসূচি পালন করছেন সেখানকার বাসিন্দারা। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে কয়েকশ মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। অবরোধের কারণে চারপাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি ও অভিযোগ:
আন্দোলনকারীরা শুধু ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ নয়, মোট পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন:
১. ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দৃশ্যমান অগ্রগতি।
২. ভোলার ঘরে ঘরে পাইপলাইনে গ্যাস সংযোগ।
৩. গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কলকারখানা স্থাপন।
৪. পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
৫. টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ।
বিক্ষোভকারীরা 'দাবি মোদের একটাই, ভোলা-বরিশাল সেতু চাই', 'আমার গ্যাস তুমি নাও, বিনিময়ে কী দাও' সহ নানা স্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, ভোলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ না থাকায় অনেক বাসিন্দা চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন এবং ভোলাবাসীর সঙ্গে 'রাষ্ট্রীয় বৈষম্য' হচ্ছে।
আন্দোলনের সূত্রপাত আরও আগে। গত ১৪ নভেম্বর ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণসহ ৫ দফা দাবিতে ভোলার শিক্ষার্থীরা সফররত অন্তর্বর্তী সরকারের তিনজন উপদেষ্টা—বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পাঁচ দফা দাবি নিয়ে বৈঠকের সময় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মঈন উদ্দীন এবং উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান সেতু নির্মাণ কাজ ডিসেম্বরে শুরু করার ঘোষণা দিলেও, ১৪ নভেম্বর উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান নিজেই বলেন যে সেতুর নকশার কাজই শুরু হয়নি এবং এটি নীতিগত সিদ্ধান্তে আটকে আছে। তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদেই শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একই দিনে ভোলা থেকে ঢাকার সেতু ভবন অভিমুখে লংমার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা তেতুলিয়া নদী সাঁতরে পাড়ি দিয়েছিলেন।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শরীফ নামে আন্দোলনকারীদের একজন সরকারের প্রতি চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবি আদায়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নিলে ভোলা থেকে 'বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ' করে দেওয়াসহ কঠোর আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হবে। এই ঘোষণা দেওয়ার পরই তারা শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক ছেড়ে দেন।
ডেস্ক রিপোর্ট