সিদ্ধিরগঞ্জে ওয়াকফকৃত মসজিদ ভাঙার অভিযোগে উত্তেজনা, জমি দখলের আশঙ্কায় এলাকাবাসীর প্রতিবাদ
- আপলোড সময় : ২৭-১১-২০২৫ ০৮:২৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৭-১১-২০২৫ ০৮:২৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৫৪ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ওয়াকফকৃত জমিতে প্রতিষ্ঠিত ৩০–৩৫ বছর আগের একটি পাকা মসজিদ ভেঙে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের নাসিকের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সালুহাজী রোডে অবস্থিত ‘বাইতুস সালাম জামে মসজিদ’টি শিল্পপতি মরহুম হাজী সালাউদ্দিন মিয়ার ব্যক্তিগত জমিতে নির্মিত হয়। সম্প্রতি মসজিদটি পুনর্নির্মাণের কথা বলে ভাঙার কাজ শুরু করলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি জানিয়ে ওয়াকফ প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় আবুল খায়ের শান্ত।
জমিদাতা সালাউদ্দিন মিয়ার ছেলে জসিম মিয়া জানান, তার বাবা নিজের অর্থায়নে দুই তলা মসজিদ নির্মাণ করেন এবং দুটি দলিলের মাধ্যমে সাত শতাংশ জায়গা ওয়াকফ করেন। তার অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র ওই জমি দখল করে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের চেষ্টা করছে। তিনি ব্যস্ত থাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মসজিদের জমি রক্ষার উদ্যোগ নিতে দায়িত্ব দিয়েছেন।
এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জুম্মা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ মুসল্লিরা এই মসজিদে ইবাদত করে আসছেন। সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপির স্থানীয় নেতা ইকবাল হোসেন বলেন, মসজিদ ভাঙার খবর পেয়ে শুক্রবার তারা গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি শাহিনূর আলম বলেন, স্থানীয়ভাবে আলোচনা করে মসজিদের উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম দাবি করেন তিনি ক্রয়সূত্রে জমিটির মালিক এবং বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভবনের নিচ ও দ্বিতীয় তলা মসজিদ হিসেবেই রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় মার্কাজুল আজিজ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল আজিজ জানান, সালাউদ্দিন মিয়া ২০০২ সালে জমিটি ওয়াকফ করেছিলেন। ২০১৬ সালে তার মৃত্যুর পর রাজনৈতিক চাপে জমিটির মালিকানা নিয়ে বিরোধ শুরু হয় এবং আশপাশের জায়গায় দোকানপাট নির্মাণের ঘটনাও ঘটে। মসজিদ ভাঙার চেষ্টা হলে স্থানীয়রা বাধা দেন এবং দোকান ভাড়ার অর্থ মসজিদের তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও শহিদুল ইসলাম তাতে সম্মত নন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।