স্থূলতা প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর হিসেবে পরিচিত ‘মোনজারো’ ও ‘জেপবাউন্ড’ বিশ্ববাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ায় ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান ইলি লিলি নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০১৮ সালে যেখানে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দর ছিল ১০০ ডলারের নিচে, বর্তমানে তা দশগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমাগত চাহিদা বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী বিক্রিই এ ঊর্ধ্বগতির মূল কারণ।
ওজন কমানোর ওষুধ ‘জেপবাউন্ড’ এবং একই ধরনের আরেকটি ওষুধ ‘মোনজারো’ বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শুরুতে এই ক্ষেত্রে নোভো নরডিস্ক এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ইলি লিলি জনপ্রিয়তায় প্রতিদ্বন্দ্বীকে ছাড়িয়ে যায়। শুধু ২০২৩ সালের পর থেকেই কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৭৫ শতাংশের বেশি, এবং সর্বশেষ লেনদেনে মূল্য আরও ১.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিকের তথ্য অনুযায়ী, মোনজারো ও জেপবাউন্ড থেকে ইলি লিলি আয় করেছে প্রায় ১০.০৯ বিলিয়ন ডলার—যা কোম্পানির মোট আয়ের অর্ধেকেরও বেশি।
গবেষণা ও উৎপাদন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি চীনে নতুন একটি গবেষণা সুবিধা চালু করেছে। এখানে একসঙ্গে ৮–১০টি প্রতিষ্ঠান গবেষণা করতে পারবে এবং শতাধিক ওষুধ উন্নয়ন প্রকল্পে একযোগে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ইলি লিলির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং লি বলেন, “নতুন ল্যাবটি একাধিক প্রতিষ্ঠানের যৌথ গবেষণার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে শতাধিক প্রকল্পে কাজের সক্ষমতা আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে।”
বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ওজন কমানোর ওষুধের বাজার ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও গবেষণায় নতুন বিনিয়োগ এ বাজারকে আরো সম্প্রসারিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট