ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে ১৯৮৩ সালের সহিংসতা ও অস্থিরতার ঘটনা নিয়ে তিওয়ারি কমিশন গঠিত হয়েছিল। ৪২ বছর পর সেই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করেছে আসাম সরকার।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, নেলি গণহত্যাসহ আসামজুড়ে অস্থিরতায় ২,৩২১ জনের মৃত্যু, ২,২০,০০০ মানুষ গৃহহীন, এবং ২২,৪৩৬টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। মোট ৫৪৮ পৃষ্ঠার রিপোর্টে প্রতিটি ঘটনা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
তিওয়ারি কমিশন উপসংহারে জানিয়েছে, ১৯৮৩ সালের সহিংসতার জন্য নির্বাচন দায়ী নয়। কমিশনের অনুসারে, ১৯৫০ থেকে ১৯৮২ সালের মধ্যে ইতিপূর্বে ১১ বার গুরুতর সহিংসতা ঘটেছে, যা নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। রিপোর্টে বলা হয়েছে, আসু ও এএজিএসপি আন্দোলন সংগঠিত ও তার প্রতিক্রিয়া এবং বনধ ও পিকেটিংয়ের কারণে সরকারি সম্পত্তি, রাস্তা, সেতু ও বাড়ি ধ্বংস হয় এবং প্রচুর মানুষ নিহত হয়।
রিপোর্টে জোর দেওয়া হয়েছে, সহিংসতাগুলোকে সম্পূর্ণভাবে সাম্প্রদায়িক বা ভাষাগত রূপ দেওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে আক্রমণকারীরা স্থানীয় অসমীয়া, ক্ষতিগ্রস্তরা বাংলাভাষী হিন্দু ও মুসলিম। নেলি, চামারিয়া, নলবাড়ি ও চওলখোয়াতের ঘটনা সেই সত্যকে প্রতিফলিত করে।
জমি সংক্রান্ত বিরোধও সহিংসতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কমিশন বলেছে, অসমীয়াদের আয়ের প্রধান উৎস ছিল জমি। অভিবাসীদের হাতে অনেক জমি চলে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরক্তি তৈরি হয়।
সাবেক কংগ্রেস এবং বর্তমান তৃণমূল সাংসদ সুস্মিতা দেব জানিয়েছেন, তিনি এখনও রিপোর্টটি পড়েননি। তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এত বছর পর আসামের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন রিপোর্ট প্রকাশ করা হলো।
তবে উল্লেখ্য, ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে বিদেশি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে চলা অসম আন্দোলনের সময়, ১৯৮৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নেলিতে এক রাতের মধ্যে ২,১০০ জনের বেশি নিহত হন। তিওয়ারি কমিশনের ৫৫১ পৃষ্ঠার রিপোর্ট ১৯৮৪ সালে জমা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু প্রকাশিত হয়নি। নেলি হত্যাকাণ্ডের পরে ৬৮৮টি মামলা দায়ের করা হয়; এর মধ্যে ৩১০টিতে চার্জশিট দাখিল করা হলেও ১৯৮৫ সালের অসম চুক্তির পর অভিযুক্তদের মুক্তি দেওয়া হয়।
ডেস্ক রিপোর্ট