তাইওয়ানকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা চীন ও জাপানের সম্পর্ককে নতুন সংকটে ঠেলে দিয়েছে, যা এখন জাতিসংঘের টেবিলেও পৌঁছেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাইকাচির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধকে উভয় পক্ষই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপের পর্যায়ে নিয়ে গেছে—২০২৩ সালের পর দুই দেশের সম্পর্কে এটিই সবচেয়ে বড় অবনতি বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
২১ নভেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু কং সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান প্রণালীর নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে যদি জাপান সামরিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তা “আগ্রাসন” হিসেবে বিবেচিত হবে। বেইজিং বরাবরই তাইওয়ানকে নিজ ভূখণ্ড বলে দাবি করে এবং প্রণালীর সামরিক উত্তেজনা তাদের মূল উদ্বেগের জায়গা।
চীন–জাপান বিরোধের সূচনা হয় নভেম্বরের শুরুতে, যখন অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী তাইকাচি সংসদে বক্তব্য রাখার সময় বলেন—চীন যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে অবরোধ বা সামরিক পদক্ষেপ নেয়, জাপান “অস্বাভাবিক ধরনের” প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। পূর্ববর্তী জাপানি নেতারা তাইওয়ানকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়ার কথা কখনও বলেননি, যা বেইজিংকে বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ করে।
বিবৃতির পর চীনের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জাপানের কাছে ব্যাখ্যা চায় এবং বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানায়। একইসঙ্গে ওসাকার চীনা কনসাল জেনারেল জুয়ে জিয়ানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম–ভিত্তিক কঠোর মন্তব্য জাপানে সমালোচনার জন্ম দেয় এবং তাকে বহিষ্কারের দাবি ওঠে।
পরিস্থিতি দ্রুত কূটনৈতিক টানাপোড়েন ছাড়িয়ে বাণিজ্যিক প্রভাবেও ছড়িয়ে পড়ে। ১৪ নভেম্বর চীন জাপানের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নির্দেশিকা জারি করে, যা দেশটির পর্যটন শিল্পে চাপ সৃষ্টি করতে পারে—কারণ চলতি বছরের জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাপানে ৭.৫ মিলিয়নের বেশি চীনা পর্যটক গিয়েছিলেন। জবাবে টোকিওও চীনে ভ্রমণের বিষয়ে নিজেদের নাগরিকদের সতর্কতা দেয়।
একই সময়ে পূর্ব চীন সাগরের সেনকাকু/দিয়াওয়ু দ্বীপপুঞ্জ ঘিরে উত্তেজনাও নতুন করে মাথাচাড়া দেয়। চীনা উপকূলরক্ষীর টহল কার্যক্রমকে জাপান তাদের জলসীমায় “সংক্ষিপ্ত লঙ্ঘন” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এর পাশাপাশি চীন জাপানি সামুদ্রিক খাবার নিষিদ্ধ করে এবং অন্তত দুটি জাপানি চলচ্চিত্রের প্রদর্শন স্থগিত করে।
সবশেষে, নভেম্বরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিতব্য জাপান–দক্ষিণ কোরিয়া–চীনের ত্রি-পক্ষীয় সংস্কৃতি মন্ত্রীদের বৈঠক স্থগিত করে বেইজিং; যা চলমান উত্তেজনার আরও একটি দৃশ্যমান বহিঃপ্রকাশ।
ডেস্ক রিপোর্ট