চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়, লালদিয়া এলাকা দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে থাকায় সেখানে টার্মিনাল নির্মাণ সম্ভব হচ্ছিল না। উচ্ছেদ শেষে জমি উন্নয়নের পথ খোলে। অন্যদিকে পানগাঁও আইসিটি নির্মাণে চট্টগ্রাম বন্দর নিজ খরচে ১৫৬ কোটি টাকা ব্যয় করলেও ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার কারণে টার্মিনালটি গত এক দশকেও পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা যায়নি। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপারেটরদের অংশগ্রহণ বন্দরের আধুনিকায়নকে নতুন পর্যায়ে তুলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার ঢাকায় পৃথক অনুষ্ঠানে দুই চুক্তি সই হয়। লালদিয়া টার্মিনালের জন্য বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান ও এপিএম টার্মিনালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টেইন ভ্যান ডোঙ্গেন স্বাক্ষর করেন। আর পানগাঁও আইসিটির চুক্তিতে সই করেন বন্দর চেয়ারম্যান এবং মেডলগ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম আনিসুল মিল্লাত।
চুক্তি অনুযায়ী এপিএম টার্মিনালস ৩৩ বছরের জন্য লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পাবে—প্রথম তিন বছর নির্মাণ, পরবর্তী ৩০ বছর অপারেশন। প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগ করবে ৫৫ কোটি ডলার, যার একটি অংশ হিসেবে সইয়ের দিন বাংলাদেশ পায় ২৫০ কোটি টাকা। টার্মিনালটি বছরে ৮–১০ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডেল করতে পারবে। ৮ লাখ টিইইউএস পর্যন্ত প্রতি কনটেইনারে দেশ পাবে ২১ ডলার, আর অতিরিক্ত অংশে আয় হবে ২৩ ডলার হারে।
পানগাঁও আইসিটির ২২ বছরের অপারেশনাল দায়িত্ব পেয়েছে মেডলগ। তারা চার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে এবং সইয়ের দিন বাংলাদেশকে ১৮ কোটি টাকা প্রদান করেছে।
বন্দর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী বড় বন্দরগুলো ইতিমধ্যে গ্লোবাল টার্মিনাল অপারেটরদের কাছে পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে আধুনিক কাঠামো গড়ে তুলেছে। ভারতের বহু বৃহৎ বন্দর, থাইল্যান্ড থেকে চীন—সবখানে আন্তর্জাতিক অপারেটররা কাজ করছে। তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলে বাংলাদেশও প্রতিযোগিতায় এগোবে। লালদিয়ার অবস্থান কর্ণফুলী মোহনার দিকে হওয়ায় সেখানে বড় ড্রাফটের জাহাজ ঢোকার সুযোগ বাড়বে, যা দেশের লজিস্টিক খাতে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ মনে করেন, লালদিয়ায় এপিএম টার্মিনালের জেটি নির্মিত হলে বড় জাহাজ গ্রহণের সক্ষমতা বাড়বে এবং মায়ের্সক লাইন্সের বিপুল পরিমাণ কনটেইনার সেগুলোতেই হ্যান্ডেল করা যাবে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটির ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ প্রতিযোগিতা বাড়াবে, যার ফলে সময়ের সঙ্গে হ্যান্ডলিং চার্জ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে পানগাঁও আইসিটি এতদিন বন্দর কর্তৃপক্ষ সফলভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। মেডলগ সেখানে নিজেদের প্রযুক্তি, অপারেশনাল সক্ষমতা ও নিজস্ব কনটেইনার ব্যবহার করলে টার্মিনালটি অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট