মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাত বছরের বেশি সময় পর ওয়াশিংটনে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানান, যা দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বে নতুন গতি যোগ করেছে বলে পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়ন। হোয়াইট হাউসে লাল গালিচা সংবর্ধনা, সামরিক ফ্লাইওভার এবং আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ সফরকে ভবিষ্যৎ মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকের আগে ও পরে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা, ইসরাইল-সৌদি সম্ভাব্য সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগসহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবকে মধ্যপ্রাচ্য কৌশলের মূল অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। এই সফর সেই অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
বৈঠকে উঠে আসা পাঁচটি প্রধান বিষয় নিচে তুলে ধরা হলো—
১. ইসরাইল–সৌদি সম্পর্ক নিয়ে অগ্রগতির ইঙ্গিত
ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবকে আব্রাহাম চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলেও স্পষ্ট করেন যে, রিয়াদ কোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সুস্পষ্ট পথ দেখতে চায়। তিনি বলেন, সৌদি আরব আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সুসম্পর্কে বিশ্বাস করে এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান তাদের অগ্রাধিকার।
২. সৌদি আরবের ‘প্রধান নন–ন্যাটো মিত্র’ মর্যাদা ও প্রতিরক্ষা চুক্তি
হোয়াইট হাউসের রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে ট্রাম্প সৌদি আরবকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘Major Non-NATO Ally’ মর্যাদা দেন, যা উন্নত মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি ও সহযোগিতা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করবে। পাশাপাশি দুই দেশ একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা জোরদারে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
৩. ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে ট্রাম্প সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, তেহরান এখন কূটনৈতিক নিষ্পত্তির জন্য আগ্রহী, যদিও যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত। বৈঠকে ইরানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আলোচনা হয়।
৪. যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি আরবের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে এবং তা এক ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। ক্রাউন প্রিন্সও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন, যা দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রযুক্তি অংশীদারত্বকে সামনে এগিয়ে নেবে।
৫. আন্তরিক পরিবেশ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তা
ওয়াশিংটনে আগমনের পর থেকেই দুই নেতার মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ লক্ষ্য করা যায়। ট্রাম্প যুবরাজকে “চমৎকার ও প্রতিভাবান নেতা” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কথাও তুলে ধরেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্তরিকতা দুই দেশের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ প্রতীকায়িত করে।
ডেস্ক রিপোর্ট