চীন–জাপান উত্তেজনায় ভ্রমণ বয়কট: জাপানের পর্যটন খাতে কোটি কোটি ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা
- আপলোড সময় : ১৯-১১-২০২৫ ০৫:০৬:৩৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৯-১১-২০২৫ ০৫:০৬:৩৮ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪৭ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
চীন ও জাপানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব দ্রুতই পর্যটন খাতে পড়তে শুরু করেছে। চীন তাদের নাগরিকদের জাপানে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই টোকিওভিত্তিক ইস্ট জাপান ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল সার্ভিস বছরের অবশিষ্ট বুকিংয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ বাতিল হতে দেখেছে।
চীনা দলভিত্তিক পর্যটকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ ভ্রমণবন্দোবস্ত বাতিলের কারণে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কায় পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধাক্কা শুধুমাত্র একটি ব্যবসাকে নয়, বরং জাপানের সামগ্রিক অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে—কারণ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে পর্যটন জিডিপির উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে আছে।
উত্তেজনার সূত্রপাত হয় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির তাইওয়ান প্রসঙ্গের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি বলেন, তাইওয়ানে সম্ভাব্য চীনা হামলা জাপানের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে এবং পরিস্থিতি সামরিক প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে। বেইজিং এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে এবং নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে সতর্ক করে। এর পরপরই বিপুলসংখ্যক জাপানগামী ফ্লাইট বাতিল হতে থাকে এবং পর্যটন খাতের শেয়ারদর কমতে শুরু করে। ইস্ট জাপান ইন্টারন্যাশনালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ জিনশিন এটিকে “বড় ক্ষতি” বলে উল্লেখ করেছেন।
ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড টুরিজম কাউন্সিল জানায়, জাপানের মোট জিডিপির প্রায় ৭ শতাংশ আসে পর্যটন থেকে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে চীন ও হংকংয়ের ভিজিটর সংখ্যা প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। নোমুরা রিসার্চ ইনস্টিটিউট অনুমান করছে, চীনা পর্যটকদের এই বয়কট বছরে প্রায় ২.২ ট্রিলিয়ন ইয়েন (১৪.২৩ বিলিয়ন ডলার) ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
বেইজিংয়ের সতর্কতার পর চীনের ১০টিরও বেশি এয়ারলাইন ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত জাপানগামী টিকিট ফেরত দিচ্ছে, এবং এক বিশ্লেষকের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ টিকিট বাতিল হয়েছে। এদিকে জাপানও তাদের নাগরিকদের চীনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করেছে।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন সাংস্কৃতিক খাতেও প্রভাব ফেলেছে। চীন নতুন জাপানি চলচ্চিত্রের প্রদর্শন স্থগিত করেছে এবং জনপ্রিয় জাপানি শিল্পীরা সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এড়াতে এক চীন নীতির প্রতি সমর্থন জানানো শুরু করেছেন।
ইস্ট জাপান ইন্টারন্যাশনালের ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, অতীতে সংকট মোকাবিলা সম্ভব হয়েছিল, যেমন ২০১২ সালে দ্বীপ বিরোধের সময়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এবার ক্ষতির পরিমাণ আরও মারাত্মক হতে পারে। তাঁর মতে, “এক-দুই মাস সহনীয়, কিন্তু অবস্থা যদি আরও খারাপ হয়, ব্যবসায় বড় আঘাত আসবে।”
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।