আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর ভারত সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, তারা রায়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাংলাদেশের শান্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার প্রতি ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ভারতের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং দেশটির স্থিতিশীলতা ও জনগণের সেরা স্বার্থ রক্ষায় দিল্লি সবসময় গঠনমূলকভাবে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত পাঠানোর যে আহ্বান জানানো হয়েছে—সেই বিষয়ে ভারত কোনো মন্তব্য জানায়নি।
এর আগে রায় প্রকাশের পরপরই ঢাকা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, পলাতক দুই দণ্ডপ্রাপ্তকে আশ্রয় দেওয়া ন্যায়বিচার বিরোধী এবং সুসম্পর্কের পরিপন্থী আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ভারতকে দ্রুত তাদের হস্তান্তরের আহ্বান জানায় এবং দুই দেশের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ একাধিকবার শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করলেও নয়াদিল্লি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এই প্রেক্ষাপটে ভারত শেষ পর্যন্ত দণ্ডপ্রাপ্তদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
চব্বিশের জুলাই–আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া দোষীদের দেশে থাকা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা নিহতদের পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণে ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট