দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট ‘কোয়াড’-এর প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তি মেনে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায় আরএসএফ।
বিবৃতিতে বলা হয়, “মানবিক পরিস্থিতির অবনতি রোধ ও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস কোয়াড দেশগুলোর প্রস্তাবিত চুক্তি গ্রহণ করছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর এবং সৌদি আরব এই যুদ্ধবিরতি উদ্যোগে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আফ্রিকা উপদেষ্টা মাসাদ বুলোস জানিয়েছেন, সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ উভয় পক্ষই তিন মাস মেয়াদি এক অস্থায়ী শান্তিচুক্তিতে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে। চুক্তি কার্যকর হলে তিন মাসের জন্য যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে এবং এই সময় রাজনৈতিক সমাধানের পথ অনুসন্ধান করা হবে।
তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি সুদানের সেনাবাহিনী। সম্প্রতি সেনাপ্রধান আবদেল ফাতাহ আল-বুরহান বলেন, “আমাদের সেনারা শত্রুপক্ষের পরাজয়ের জন্য অপেক্ষা করছে।”
২০১৯ সালের পর থেকে সুদানে আরএসএফ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার নেয়। গত ২৬ অক্টোবর আরএসএফ উত্তর দারফুর প্রদেশের রাজধানী আল-ফাশের শহর দখল করে নেয় এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ব্যাপক সহিংসতা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, দীর্ঘ ১৮ মাসের অবরোধ শেষে সেনাবাহিনীকে আল-ফাশের থেকে হটানোর পর শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। একটি হাসপাতালেই প্রায় ৪৬০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া এলাকাজুড়ে যৌন সহিংসতা, লুটপাট, ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলা এবং অপহরণের ঘটনাও ঘটছে।
সূত্র: রয়টার্স
ডেস্ক রিপোর্ট