ইরান সম্প্রতি ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী ও উন্নত প্রযুক্তিতে পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। দেশের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান রোববার তেহরানে পারমাণবিক সংস্থার কার্যালয় পরিদর্শনের সময় এ ঘোষণা দেন এবং জানান, ভবন ধ্বংস করা তাদের অগ্রগতিকে প্রতিহত করতে পারবে না কারণ বিজ্ঞানীরা প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা ধরে রেখেছেন।
গত জুনে ইসরায়েল একটি ১২ দিনব্যাপী ব্যাপক বিমান হামলা চালায়, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নেয়। হামলার লক্ষ্য ছিল পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা ছাড়াও আবাসিক এলাকা, যার ফলে বহু শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী নিহত হন। এই ঘটনার জবাবে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইসরায়েলের শহরে পাল্টা হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে, তবে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও সঠিকভাবে জানা যায়নি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেছেন যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না এবং তাদের কর্মসূচি শুধুমাত্র চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের উদ্দেশ্যে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনাগুলোকে আগের চেয়েও শক্তিশালীভাবে পুনর্নির্মাণ করা হবে।
একই সময়ে, ওমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরতে আহ্বান জানিয়েছে। গতবছর ওমানে গোপন পাঁচ দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে, ষষ্ঠ দফা বৈঠকের ঠিক তিন দিন আগে ইসরায়েল হামলা চালায়। সাম্প্রতিক এই সংঘাতের পর থেকে ইরানকে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছে, যেখানে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে পুরনো নিষেধাজ্ঞা পুনর্বলিত করেছে। তবে তেহরান বারবার বলেছে যে আন্তর্জাতিক বাধা সত্ত্বেও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেমে থাকবে না ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো উন্নত প্রযুক্তিতে পুনর্নির্মাণ করা হবে।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রবল হলেও, কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা এখনও টিকে আছে, যা ভবিষ্যতে শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে একটি আবশ্যক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।