চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং—ইজারা সিদ্ধান্তে বিক্ষোভ: বিদেশি অপারেটর নিয়োগ বাতিলের দাবি
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০১-১১-২০২৫ ১০:৪১:০৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-১১-২০২৫ ১০:৪১:০৪ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪৬ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
সরকারের সিদ্ধান্তে ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ৩০ বছরের ইজারা বিদেশি কোম্পানির হাতে দেয়ার পরিকল্পনা ঘোষণার পর থেকে শ্রমিক–কর্মচারী সংগঠন ও স্থানীয় অংশীদাররা প্রতিবাদে সরব হয়েছে। আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব ও পতেঙ্গা লালদিয়ার চরে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার অধিকার ডেনিশ এপি মোলার মায়ার্সকে দেয়ার প্রস্তাব কেন্দ্রীয় বিরোধিতার সূত্রপাত ঘটিয়েছে। শনিবার (১ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে শ্রমিক সংগঠনগুলো দিনব্যাপী গণ–অনশন আয়োজন করে; তারা সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে আরও কড়া আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
অনশনকারীরা বলছেন, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্য পরিবহনে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে স্থানীয় ক্ষমতাই কার্যকর ভূমিকা পালন করছে এবং মালিকানায় বিদেশি অপারেটর আনার প্রয়োজন নেই। তাদের দাবি—এ ধরনের লীজ অর্থনৈতিক স্বার্থের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এবং দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন তুলবে। সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা নেতারা আরও জানিয়েছেন, সম্প্রতি টার্মিনালের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা—গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ সব প্রয়োজ্য যন্ত্রপাতি, কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা (বার্ষিক প্রায় ১০ লাখ একক কন্টেইনার সক্ষমতা; গত বছর ১২ লাখ ৮১ হাজার কন্টেইনার হ্যান্ডলিং রেকর্ড করা)—এখানকার অপারেশনগুলো ইতিমধ্যেই স্বয়ংসম্পূর্ণ ও দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে।
অংশগ্রহণকারী নেতারা দাবি করেন, লাভজনক প্রতিষ্ঠানের লীজ দেওয়া স্থানীয় কর্মসংস্থান ও রাজস্বের স্বার্থ-বিরোধী সিদ্ধান্ত। বাম গণতান্ত্রিক জোট চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক শফি উদ্দিন কবির উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী একটি প্রশাসন গোপনে বিদেশী অপারেটরের সঙ্গে চুক্তি করেছিল; বর্তমান প্রশাসন সেটি পর্যালোচনা না করেই একই সিদ্ধান্ত প্রতিপত্তি করছে। এ প্রসঙ্গে অনেকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন—রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো নির্বাচিত সংসদের মধ্যেই গ্রহন করা ও জনস্বার্থের ওপর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বন্দর ব্যবহারকারীরা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা লীজ নিলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি, স্থানীয় কর্মসংস্থান সংকোচন এবং সরকারি রাজস্ব-হ্রাসের আশঙ্কা দেখাচ্ছেন; তাই তারা সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন। অনশন ও গণ–আন্দোলন চালিয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলো সরকারের কাছে কোনোক্রমে তৎপর প্রতিকার না পেলে আন্দোলন তীব্র করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।