ভেনেজুয়েলার ভেতরে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, এবং যেকোনো সময় এই অভিযান শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে মিয়ামি হেরাল্ড ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পরবর্তী ধাপ হিসেবে এই হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা মাদক পাচার চক্রের ব্যবহৃত সামরিক স্থাপনাগুলোকে।
সূত্রমতে, আকাশপথে কয়েকদিন ধরে পরিচালিত হতে পারে এসব হামলা। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে প্রতি বছর প্রায় ৫০০ টন কোকেন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পাচার হয়। যদিও মাদুরোকে সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে কিনা সে বিষয়ে মার্কিন সূত্রগুলো স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি, তবে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে “তার সময় শেষের দিকে।”
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, মাদুরোর প্রশাসনের একাধিক জেনারেল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনে প্রেসিডেন্টকে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটন মাদুরোর গ্রেফতারে তথ্য দিলে ৫ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে, যা মার্কিন ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম পুরস্কার। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলোর বিরুদ্ধেও রয়েছে আড়াই কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা।
ক্যারিবীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে ওই এলাকায় যুদ্ধজাহাজ, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, পারমাণবিক সাবমেরিন এবং কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন বাহিনী ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলার সন্দেহভাজন নৌযানে অন্তত ১২ বার হামলা চালিয়েছে, যাতে ৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এসব হামলাকে “বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড” হিসেবে বর্ণনা করে যুক্তরাষ্ট্রকে তা বন্ধের আহ্বান জানালেও ওয়াশিংটন সে সমালোচনায় কর্ণপাত করেনি। মার্কিন সিনেটর রিক স্কট এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর সময় ফুরিয়ে এসেছে; তার এখনই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।”
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটন “একটি নতুন ও অনন্ত যুদ্ধের আগুন জ্বালাতে চাইছে।” প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভেনেজুয়েলা সরকার দেশজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করে ৫ হাজার রুশ নির্মিত ইগলা-এস অ্যান্টি-এয়ারক্র্যাফট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট