১২০ সদস্যবিশিষ্ট নেসেটে বিলটি পাস হওয়ার পর এখন এটি সংসদের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে, যেখানে পরবর্তী ধাপের আলোচনার পর আইন হিসেবে কার্যকর হতে আরও তিন দফা ভোট প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার দল লিকুদ পার্টি প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করলেও জোটসঙ্গী ও বিরোধী দলের কয়েকজন এমপি বিলটির পক্ষে ভোট দেন।
নেসেটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব জুদিয়া ও সামারিয়া অঞ্চলে (পশ্চিম তীর) প্রয়োগের লক্ষ্যেই এই আইন প্রস্তাব করা হয়েছে।”
এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর সংযুক্তির অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সময়ে গাজায় যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরায়েল সফরে রয়েছেন।
এদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এক বিবৃতিতে এই ভোটকে “বিরোধীদের রাজনৈতিক উসকানি” বলে দাবি করে জানিয়েছে, এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তারা বলেছে, “সার্বভৌমত্ব প্রদর্শনের ভান নয়, বাস্তব পদক্ষেপই সত্যিকারের সার্বভৌমত্ব প্রমাণ করতে পারে।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিম তীর সংযুক্ত হলে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যাবে।
এই বিলের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ফিলিস্তিন, কাতার, সৌদি আরব, জর্ডান ও হামাসসহ বিভিন্ন পক্ষ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা একটি একক ভূখণ্ড, যার ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌম দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। হামাস জানিয়েছে, “এই বিল দখলদার ইসরায়েলের উপনিবেশবাদী মুখোশ খুলে দিয়েছে।”
কাতার এই পদক্ষেপকে “আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ” বলে আখ্যায়িত করেছে, সৌদি আরব জানিয়েছে তারা “ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর সব ধরনের সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপন কর্মকাণ্ড দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে।”
জর্ডানও একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের পথে গুরুতর বাধা হিসেবে বর্ণনা করেছে। বর্তমানে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় সাত লাখ ইসরায়েলি অবৈধ বসতিতে বাস করছে—যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ ঘোষিত।
সূত্র: আল জাজিরা
ডেস্ক রিপোর্ট