নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) জানিয়েছে, দখলদার শক্তি হিসেবে গাজায় মানবিক ত্রাণ প্রবেশ নিশ্চিত করতে ইসরাইলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বুধবার গাজায় ত্রাণ সরবরাহ সংক্রান্ত নির্দেশে এ মন্তব্য করে আইসিজে। আদালতের মতে, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ গাজায় সহায়তা দিতে গিয়ে কোনো নিরপেক্ষতা লঙ্ঘন করেনি।
ইসরাইল এর আগে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রমকে বিতর্কিত ঘোষণা করে এবং সংস্থাটির কিছু কর্মীর হামাসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলে। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ইসরাইল এই অভিযোগের কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। ইউএনআরডব্লিউএও অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
আইসিজের এই রায় গাজা ইস্যুতে গত দুই বছরে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আদালতের তৃতীয় নির্দেশনা। এর আগে ২০২3 সালের জানুয়ারিতে ইসরাইলকে গণহত্যা বন্ধে পদক্ষেপ নিতে এবং জুলাই মাসে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করে আদালত। গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে এই রায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসরাইলের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা মামলার পর আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাজা ইস্যুটি নিয়মিত আলোচিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘ আইসিজের কাছে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রমের বৈধতা যাচাইয়ের আবেদন করেছিল। যদিও আদালতের সিদ্ধান্ত মানতে কোনো রাষ্ট্রের আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, তবে রায়টি জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর কাজকে সমর্থন জুগিয়েছে।
ইসরাইলি দূত এই সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে মানবিক সংস্থাগুলো মনে করছে, এটি গাজায় মানবিক সহায়তার পথ কিছুটা হলেও উন্মুক্ত করবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি প্রতিরোধগ্রুপ ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডে অভিযান চালালে দুই পক্ষের যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায় ইসরাইল। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার অংশ হিসেবে সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।
ডেস্ক রিপোর্ট