তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে দায়ের করা একাধিক আপিলের দ্বিতীয় দিনের শুনানি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চলমান। বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।
বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করছেন সিনিয়র আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান করছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।
এর আগে, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) শুনানির প্রথম দিনে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে করা আপিলগুলোর প্রাথমিক উপস্থাপন হয়। উল্লেখ্য, ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) অনুমতি দেয় আদালত, যার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে আপিল শুনানি চলছে।
এই আপিলের অন্যতম আবেদনকারী হচ্ছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান। পৃথকভাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও আপিল করেছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রথমবার সংবিধানে যুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। তবে এ ব্যবস্থা নিয়ে আইনগত বিতর্ক শুরু হয় ১৯৯৮ সালে, যখন অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ কয়েকজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০০৪ সালে হাইকোর্ট এ রিট খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে।
এরপর ২০০৫ সালে আপিলের অনুমতি দেওয়া হলে বিষয়টি আপিল বিভাগে যায়। দীর্ঘ শুনানির পর, ২০১১ সালের ১০ মে সাত বিচারপতির একটি বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে দেয়। এর ফলস্বরূপ ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় পঞ্চদশ সংশোধনী, যা সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপ ঘটায়।
বর্তমান আপিলগুলো মূলত সেই ২০১১ সালের রায়ের পুনর্বিবেচনার দাবিতে দায়ের হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। শুনানি চলমান থাকায় এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের দিকটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট