হরিরামপুর ঐতিহাসিকভাবে পানচাষের জন্য পরিচিত। মানিকনগর, কৃত্তিপুর, গারুটিয়া ও ধুলিশ্বর গ্রামের মাঠে একসময় অসংখ্য পানবরজ থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৩০টির মতো বরজ কার্যকর রয়েছে। চাষিরা প্রতিদিন সকালে বরজে গিয়ে পান পাতা তোলা, গাছের গোড়ায় পানি দেওয়া এবং আগাছা পরিষ্কার করেন, তবে খুশির কোনো ছায়া নেই।
চাষিরা জানিয়েছেন, সার, কীটনাশক, বাঁশ ও পাটখড়ির দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। মানিকনগর গ্রামের লতিফ মিয়া বলেন, “একটা বরজ চালাতে খরচ আগের চেয়ে তিনগুণ বেশি, কিন্তু বাজারে দাম কম, ফলে অর্ধেক পাতা তুলাও সম্ভব হচ্ছে না।”
মো. আকছেদ জানান, “৬৬ শতাংশ জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৬ লাখ টাকা। বাজারে এখন দাম নেই। সরকার যদি প্রণোদনা দিত বা বিনা মূল্যে সার-বীজ দেয়, আমরা টিকে থাকতে পারতাম।” দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ চাষি আলম মিয়া বলেন, সাঁচি ও গয়াচি জাতের পান একসময় দেশের বাজারে সুনাম পেয়েছিল। তবে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজার হারিয়ে গেছে এবং পানের দাম ৮০–১০০ টাকা থেকে কমে ৪০–৫০ টাকায় নেমেছে।
মানিকগঞ্জ কৃষি উন্নয়ন কমিটির সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম বলেন, “সরকারি সহায়তা ও ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা না থাকলে, একদিন হারিয়ে যাবে হরিরামপুরের ‘পানের রাজ্য’।“ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান খান জানিয়েছেন, বর্তমানে ৩ হেক্টর জমিতে ৩০টি বরজ আছে এবং বাজারে সরবরাহ বেড়ে দাম কিছুটা কমেছে। তিনি বলেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট