হামাস শনিবার রাতের মধ্যে দুই ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ রেড ক্রসকে হস্তান্তর করেছে; কফিনগুলো পরে তেলআবিবের আবু কবির ফরেনসিক ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে পরিচয় শনাক্তের জন্য। যদি এগুলো জিম্মিদেরই মরদেহ হিসেবে নিশ্চিত হয়, তাহলে হামাস কর্তৃক হস্তান্তরিত মরদেহগুলোর সংখ্যা বাড়বে এবং এখনও গাজায় আরও মরদেহ রয়ে গেছে বলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রেড ক্রসের মাধ্যমে মরদেহগুলো নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোকে গাজার দিকে থেকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের নিকট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে; এরপরই ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আবু কবির ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, পরিচয় নিশ্চিত হতে দুই দিন বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে, যদিও অতীতেও কিছু ক্ষেত্রে ফরেনসিকরা দ্রুত পরিচয় নিশ্চিত করেছে। এই অনাপত্তি ও সময়সীমা নিয়ে ইসরায়েল ও মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় চলছে।
জটিল প্রেক্ষাপট: মরদেহ হস্তান্তর বর্তমানে চলমান অস্থির বিরতির (truce/ceasefire) একটি সংবেদনশীল অংশ। গত কয়েক দিনে হামাস কিছু মরদেহ ফিরিয়ে দিয়েছে এবং জীবিত আটককৃতদের কয়েকজনও মুক্তি পেয়েছে, তবে মৃতদের পুরোপুরি উদ্ধার ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া ধীরগতির হওয়ায় দুইপক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করেছে। হামাস বলেছে অনেক মরদেহ ধ্বংসস্তূপ বা ভূগর্ভস্থ টানেলে আটকে আছে এবং সেগুলো বের করতে বিশেষ যন্ত্রপাতি লাগবে; অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করছে দ্রুত সব মরদেহ ফেরত দিতে হবে।
রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রভাব: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সব মরদেহ ফেরত পাওয়া এবং হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রকরণের মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ হবে—এই দাবি প্রস্তাবনার অংশ হিসেবে থাকলেও, হামাস স্পষ্ট করে বলেছে তারা রাইফেল জাতীয় রক্ষণাত্মক অস্ত্র দেবে না এবং গাজায় নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়। দুইপক্ষের এ বিবৃতি ও জটিল ব্যবস্থাপনার কারণে সমঝোতা দীর্ঘস্থায়ী হবে কিনা তা অনিশ্চিত।
পরবর্তী ধাপ ফরেনসিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও মরদেহগুলোকে চিহ্নিত করার পরেই ইসরায়েলি পরিবারগুলোকে খবর দেওয়া ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। মধ্যস্থতাকারী দেশ ও সংস্থাগুলো—বিশেষত রেড ক্রস—এই প্রক্রিয়ায় তৎপর ভূমিকা পালন করছে, আর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ ও মানবিক বিবেচনা এখনও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।