ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেনি সাম্প্রতিক কার্গো ভিলেজ অগ্নিকাণ্ডের পর। বিমান চলাচল শুরু হলেও ফ্লাইট শিডিউলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, ফলে বেশিরভাগ ফ্লাইটই ছাড়ছে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা, বিশেষ করে ট্রানজিট ফ্লাইটের যাত্রীরা পড়ছেন চরম বিড়ম্বনায়।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতের নির্ধারিত একাধিক ফ্লাইট রবিবার সকাল পর্যন্ত ছাড়তে দেরি হয়। কিছু ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর ছেড়ে যায়। এমনকি সকালের ফ্লাইটগুলোকেও সময়মতো ছাড়ানো সম্ভব হয়নি—সেগুলোর অনেকগুলোই দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে।
শনিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে, তাদের সহায়তায় যোগ দেয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত সোয়া ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণে টানা সাত ঘণ্টা বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে বিকল্প হিসেবে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর রাত ৯টার দিকে পুনরায় ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়।
ঘটনার পর কার্গো সেকশনে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে গঠিত কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়ও পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করেছে, যার আহ্বায়ক অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী। কমিটিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও কাস্টম হাউস ঢাকার কর্মকর্তারাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অগ্নিকাণ্ডের পর বিমানবন্দরের কার্গো কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় শুধু যাত্রী পরিবহনই নয়, পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিমানবন্দর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট