চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) একটি নয়তলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ছয় ঘণ্টা পরও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে ভবনের অষ্টম তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য তলায়। ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সহায়তায় আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে। তবে ভবন ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, কারখানার ভেতরে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে। আগুন আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. জাহাংগীর বলেন, “আগুন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, ভবনটি ধসে পড়ার উপক্রম। তবে ভেতরে কেউ আটকা পড়েছে এমন খবর পাওয়া যায়নি।”
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটিতে দুটি কারখানা ছিল—একটিতে তোয়ালে এবং অন্যটিতে মেডিকেল সামগ্রী উৎপাদন হতো, যার নাম ‘অ্যাডামস ক্যাপ’।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন জানান, “আমরা ভবনের ৬ ও ৭ তলায় আটকে পড়া ২৫ জন শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছি। আটতলায় যারা ছিলেন, তারাও নিরাপদে বেরিয়ে এসেছেন।”
তিনি আরও বলেন, দুপুর ২টা ১০ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে দুই মিনিটের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। স্টেশনটি ঘটনাস্থল থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে।
এদিকে ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামির হোসেন জানিয়েছেন, আগুন লাগা ভবনে তোয়ালে ও মেডিকেল পণ্য তৈরি হতো। “আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে,” বলেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আশপাশের রিজার্ভ ট্যাংক থেকে পানি এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলেও তা খুব বেশি কাজে আসছে না। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ আগুন পাশের ভবনগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট