ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি কর্মচারী জেলে গেলে চাকরি হারান, কিন্তু মন্ত্রীরা কেন জেলে থেকেও পদে বহাল থাকবেন?
শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিহারের গয়ায় এক জনসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “যদি কোনো সরকারি কর্মচারী ৫০ ঘণ্টা জেলে থাকেন, তার চাকরি চলে যায়—তিনি গাড়িচালক, কেরানি বা পিয়ন যেই হোন না কেন। কিন্তু মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রীও জেল থেকে সরকার চালাতে পারেন! এটা কি স্বাভাবিক?”
মোদি আরও বলেন, অতীতে দেখা গেছে, নেতারা জেলে বসে ফাইলে সই করেছেন, এমনকি সরকারি নির্দেশনাও জারি করেছেন। “যদি নেতারাই এমন আচরণ করেন, তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই কীভাবে সম্ভব?”—যোগ করেন তিনি। এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি লোকসভায় ১৩০তম সংবিধান সংশোধনীসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করেছেন। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী/মন্ত্রী যদি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে ৩০ দিনের বেশি জেলে থাকেন, তবে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল তাদের পদ থেকে অপসারণ করতে পারবেন।
এই বিল পেশ হতেই বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরা হট্টগোল শুরু করেন, ওয়েলে নেমে স্লোগান দেন। এমনকি তৃণমূল সাংসদরা বিলের কপি ছিঁড়ে অমিত শাহর দিকে নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করতে বাধ্য হন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই বিল আইনে পরিণত করা সহজ হবে না, কারণ সংসদের দুই কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পাওয়া প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, মোদির বক্তব্যকে অনেকে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের প্রতি ইঙ্গিত বলে মনে করছেন। কেজরিওয়াল আবগারি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল থেকে সরকার চালিয়েছিলেন, পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জামিন পান এবং পদত্যাগ করেন।
আগামীতে মোদি পশ্চিমবঙ্গে আসবেন এবং কলকাতায় নতুন মেট্রো রুট উদ্বোধনসহ দমদমে একটি জনসভায় যোগ দেবেন।
ডেস্ক রিপোর্ট