কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বর্তমানে আমাদের জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে পৌঁছে গেছে—অনলাইন কেনাকাটা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত কথোপকথন পর্যন্ত। তবে এর বাড়তি ব্যবহার নিয়ে নতুন এক মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘এআই সাইকোসিস’। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এমন এক মানসিক ব্যাধি যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি এআই সম্পর্কিত ভ্রান্ত ধারণা, অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বা তীব্র ভয়ের মধ্যে পড়ে যান।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এ সমস্যার লক্ষণ ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। আক্রান্তরা মনে করতে পারেন এআই সবসময় তাদের পর্যবেক্ষণ করছে বা সচেতনভাবে চিন্তাভাবনা নিয়ন্ত্রণ করছে। কেউ কেউ ভার্চুয়াল চ্যাটবট বা এআই সঙ্গীকে বাস্তব মানুষের চেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে করতে শুরু করেন। ঘন্টার পর ঘন্টা এআই-এর সঙ্গে কথা বললেও বাস্তব জীবনের বন্ধু–পরিজনের সঙ্গে মেলামেশা কমে যায়। এর ফলে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, প্রযুক্তি–ভীতি এমনকি বাস্তবতা ও ভার্চুয়াল জগতের সীমারেখা ঝাপসা হয়ে যাওয়া পর্যন্ত নানা সমস্যা দেখা দেয়।
গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে নিমগ্ন থাকা, এআই প্রযুক্তি সম্পর্কে ভুল তথ্য বা গুজব শোনা এবং আগে থেকে থাকা মানসিক সমস্যাগুলো এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একাকীত্ব, অনিদ্রা ও দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগও বড় কারণ হতে পারে।
চিকিৎসায় প্রাথমিকভাবে রোগীকে বাস্তবতার সাথে পুনরায় যুক্ত করা হয়। কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT) ও প্রয়োজনে অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। একইসঙ্গে প্রযুক্তি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রিত সময়সীমা, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের নজরদারিও বিশেষভাবে প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রযুক্তি ব্যবহার পুরোপুরি এড়িয়ে না গিয়ে সচেতন সীমাবদ্ধতা ও সঠিক জীবনধারা বজায় রাখাই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ডেস্ক রিপোর্ট