ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা কেন আটকে: অবিশ্বাস ও শর্তের দ্বন্দ্বে থমকে শান্তি আলোচনা
- আপলোড সময় : ২৪-০৪-২০২৬ ১০:৪৯:১০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৪-০৪-২০২৬ ১০:৫৬:১০ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৭১ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও শর্ত নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে না দুই দেশ। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের পারস্পরিক অবিশ্বাসই এই অচলাবস্থার প্রধান কারণ, যার ফলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
দুই দেশের মধ্যে আলোচনার প্রক্রিয়া একাধিকবার শুরু হলেও প্রতিবারই তা থমকে গেছে। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে অনাগ্রহী। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অতীতের অভিজ্ঞতা—বিশেষ করে ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সরে যাওয়ার ঘটনা। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় স্বাক্ষরিত চুক্তিটি আন্তর্জাতিকভাবে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটি বাতিল করেন, যা তেহরানের কাছে ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে।
পরবর্তীতে জো বাইডেন প্রশাসন চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিলেও ইরান ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামো এমন স্থায়ী নিশ্চয়তা দিতে সক্ষম নয় বলে ধারণা করা হয়। ফলে আলোচনার শুরু থেকেই আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহও এই অবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরানের অভিযোগ, আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যা কূটনৈতিক আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে—ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখেনি, বরং দীর্ঘদিন ধরে গোপনীয়তা অবলম্বন করেছে।
এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য চুক্তির শর্তগুলোও জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে তাদের পরমাণু কার্যক্রম সীমিত করা বা ইউরেনিয়াম সরবরাহে ছাড় দিতে হতে পারে, যা তাদের জন্য বড় ধরনের ও স্থায়ী সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো পদক্ষেপ তুলনামূলকভাবে পরিবর্তনযোগ্য, ফলে চুক্তির ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
এরপরও উভয় পক্ষই কূটনৈতিক আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইছে না। তবে একটি টেকসই সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে এমন একটি কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে কোনো পক্ষই একতরফাভাবে সুবিধা নিয়ে চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ না পায়।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।