আইন উপদেষ্টা তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে দেশকে স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত করেছেন। শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়ন ও রক্তক্ষয়ী হামলার মুখে তারা যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, তার জন্য তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে দায়মুক্তি দেওয়া কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং একটি নৈতিক অধিকার। ড. আসিফ নজরুল বলেন, "এ ধরনের আইন প্রণয়ন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সম্পূর্ণ বৈধ।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আরব বসন্তসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণঅভ্যুত্থানের পর জনধিকৃত সরকারের পতনের পর এমন দায়মুক্তি আইনের নজির রয়েছে।
আইনগত ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. আসিফ নজরুল বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে দায়মুক্তি আইন প্রণয়নের বৈধতা দেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি জানান, ১৯৭৩ সালেও মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সুরক্ষায় একই ধরনের দায়মুক্তি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা এবং জুলাই বিপ্লবের মহত্ব রক্ষা করতেই আইন মন্ত্রণালয় এই খসড়া প্রস্তুত করেছে।
উপদেষ্টা পরিষদের পরবর্তী বৈঠকে এই অধ্যাদেশটি পাস হলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে থাকা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ও আইনি হয়রানি চিরতরে বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ড. আসিফ নজরুল তার বার্তার শেষে অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, "জুলাই বিপ্লবের অর্জন ও এর যোদ্ধাদের নিরাপদ রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।" এই ঘোষণার পর ছাত্র-জনতার মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট