নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিল শেষে প্রার্থীদের হলফনামায় উল্লিখিত আয়-ব্যয়, সম্পদের বিবরণ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করছে। ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত জমা হলফনামাগুলো কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে, যাতে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নেতাদের তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের বার্ষিক আয় এবং সম্পদের হিসাব বাস্তবায়িত কি না, এই প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে।
প্রার্থীদের হলফনামায় দেওয়া তথ্যের যাচাই নিয়ে অতীতের মতোই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, এই প্রক্রিয়া কেবল আনুষ্ঠানিকতামূলক এবং সঠিক তথ্য উন্মোচন করে না। উদাহরণস্বরূপ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয় দেখানো হয়েছে ৬.৭৬ লাখ টাকা, যদিও তার মোট সম্পদ প্রায় ১.৯৭ কোটি টাকা এবং স্ত্রীর সম্পদ ১.০৫ কোটি টাকা। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি, নামে ৩.৪৫ লাখ টাকার অকৃষি জমি এবং ৭৭টি মামলার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
একইভাবে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হলফনামায় বার্ষিক আয় ৩.৬ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে, কিন্তু সম্পদ প্রায় ১.৫ কোটি টাকার—১৮ কোটি টাকার কৃষি জমি, ২.৫৪ কোটি টাকার অকৃষি জমি, ২৭ লাখ টাকার ডুপ্লেক্স বাড়ি, একটি গাড়ি এবং ১০ ভরি সোনা সহ। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস এবং ৩৪টি মামলার তথ্য দিয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির নাহিদ ইসলামের আয় ১৩.০৫ লাখ টাকা, সম্পদ ৩২.১৬ লাখ টাকা (স্থাবর সম্পত্তি নেই), স্নাতক যোগ্যতা এবং স্ত্রীর ১৫ লাখ টাকার সম্পদ উল্লেখ করেছেন। জাতীয় পার্টির জিএম কাদেরের নগদ অর্থ ৬০.৩২ লাখ টাকা (আগের নির্বাচনে ৪৯.৮৮ লাখ), লালমনিরহাট ও ঢাকায় বাড়ি, ৮৫ লাখ টাকার গাড়ি, ১২টি মামলা এবং ১২ লাখ টাকা ঋণের তথ্য রয়েছে।
হলফনামা বাধ্যতামূলক হলো ২০০৮ সাল থেকে, যাতে এখন ১০ ধরনের তথ্য—জন্মতারিখ, শিক্ষা, মামলা, আয়ের উৎস, সম্পত্তি, ঋণ, আয়কর রিটার্নসহ। রিটার্নিং অফিসাররা ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, পুলিশ এবং আদালত থেকে যাচাই করে। নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা জেসমিন টুলি বলেন, অসত্য তথ্যে প্রার্থিতা বাতিল এবং জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে। ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত যাচাই, ১৮ জানুয়ারি আপত্তি নিষ্পত্তি এবং ২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থীতা ঘোষণা হবে। যে কেউ প্রমাণসহ চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।
তবু বিশ্লেষকরা মনে করেন, সীমিত সময়ে সঠিক যাচাই সম্ভব নয় এবং প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ। সাব্বির আহমেদ বলেন, কমিশনের শক্তি এবং প্রতিশ্রুতির উপর নির্ভর করে ফলাফল। এই তথ্যগুলো প্রার্থীদের সম্পর্কে ধারণা দিলেও বাস্তবতা যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট