দীর্ঘদিনের খেলাপি ঋণ সংকট ও আর্থিক অনিয়মের চাপে দেশের নয়টি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অবস্থা এতটাই দুর্বল যে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নেই; তাই ব্যাংকের মতোই অবসায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ধাপে ধাপে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতিতে বড় ধাক্কায় পড়েছেন সাধারণ আমানতকারীরা। গাজীপুরের সৈকত দাস নিজের টিউশনি ও পরিবারের সঞ্চয়ের প্রায় সাত লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন আভিবা ফাইন্যান্সে। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের ঘোষণার পর বারবার চেষ্টা করেও তিনি টাকা তুলতে পারেননি। তার অভিযোগ, প্রভাবশালী গ্রাহকেরা ফেরত পাচ্ছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষকে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। এমন অনিশ্চয়তায় বহু আমানতকারী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাতের ৩৫ প্রতিষ্ঠানের মোট ২৫ হাজার ৮৯ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের ৫২ শতাংশই এই ৯ প্রতিষ্ঠানের ঘাড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, অবসায়নের আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে ধাপে ধাপে। তবে কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রশ্ন নেই, কারণ প্রতিষ্ঠানগুলো আর টিকে থাকবে না।
এনবিএফআই বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে। অনেকে মনে করছেন, ব্যাংক খাতে যেভাবে তারল্য সহায়তা দিয়ে পুনরুজ্জীবনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তেমনি কঠোর শর্তে হলেও এসব দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও শেষবারের মতো সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে।
বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরীর মতে, সীমিত পরিসরে মূলধন সহায়তা দিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যেতে পারে—যাতে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম কিনা। ব্যর্থ হলে তবেই অবসায়ন চূড়ান্ত করা উচিত।
অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় থাকা ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পোর্টফোলিওতে খেলাপির পরিমাণ তুলনামূলক কম—৪৯ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকার বিপরীতে খেলাপি মাত্র ৩ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা। এসব প্রতিষ্ঠান গত বছর ১ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা মুনাফাও করেছে, যা পুরো আর্থিক খাতে বৈষম্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার চিত্র স্পষ্ট করে।
ডেস্ক রিপোর্ট