আজ বেলা আড়াইটার দিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মরত তিন শতাধিক নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী সচিবালয়ে জড়ো হন এবং মিছিল নিয়ে অর্থ উপদেষ্টার দপ্তরের সামনে অবস্থান নেন। তারা হ্যান্ড মাইকে ভাতার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন এবং সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা পর্যন্ত অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম বিকেলে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, উপদেষ্টা তার কার্যালয়েই আছেন এবং আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিসংবলিত স্লোগান দিচ্ছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সন্ধ্যায় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার বৈঠক করেন। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সমঝোতার লক্ষ্যে তাদের কাছে বার্তা পাঠানো হয় যে, তাদের দাবি অনুযায়ী ২০ শতাংশ সচিবালয় ভাতা চালুর প্রজ্ঞাপন আগামী সোমবার জারি করা হবে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা এই বার্তা মানতে রাজি হননি। তারা আজই (বুধবার) প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে অনড় অবস্থান ধরে রাখেন, যার কারণে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, উপদেষ্টা, মন্ত্রী ও সচিবেরা রাতে যতক্ষণ অফিসে কাজ করেন, তাদেরও ততক্ষণই থাকতে হয়। অথচ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতনকাঠামোর বাইরে নানা ধরনের ভাতা পেলেও সচিবালয়ের কর্মচারীদের তা দেওয়া হয় না। তাদের একজন জানান, মহার্ঘ ভাতা বা রেশনের বিষয়ে আগেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা কার্যকর হয়নি, যা তাদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
অবশেষে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ থাকার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে যায়। সন্ধ্যায় পুলিশের বিশেষায়িত একটি ইউনিট নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শুরু করে এবং বাঁশি বাজিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়।
প্রসঙ্গত, সরকার দফায় দফায় সচিবালয়ে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে আদেশ জারি করেছে। চলতি সপ্তাহেও তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, আন্দোলন পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বারবার এ আদেশ অমান্য করেই সচিবালয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দাবিতে সভা-সমাবেশ চলছে।
ডেস্ক রিপোর্ট