নির্ধারিত নিট মুনাফা অর্জন করতে না পারলে বেসরকারি ব্যাংকগুলো আর কর্মীদের উৎসাহ বোনাস দিতে পারবে না—বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নতুন নির্দেশনার পর এমনটাই জানা গেছে। ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক স্থিতি নিশ্চিত করতে এ নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে, যা অনেক প্রতিষ্ঠানের বোনাস প্রদানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকের আয়-ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব অনুযায়ী নিট মুনাফা অর্জিত না হলে কোনোভাবেই প্রণোদনা বোনাস দেওয়া যাবে না। পুঞ্জীভূত মুনাফা থেকে বোনাস বিতরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রেগুলেটরি মূলধন কিংবা নিরাপত্তা সঞ্চিতিতে ঘাটতি থাকলে অথবা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া বিলম্বিত ছাড় সুবিধা থাকলে তাও বোনাস প্রদানে প্রতিবন্ধক হিসেবে গণ্য হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু ব্যাংক প্রকৃত আর্থিক অবস্থার চেয়ে বেশি মুনাফা দেখিয়ে কর্মীদের বোনাস প্রদান করে থাকে। আর্থিক সুশাসন বজায় রাখতে এবং ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রেণিকৃত ও অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং ব্যাংকিং সূচকে ইতিবাচক উন্নতি না থাকলে বোনাস প্রদানের অনুমতি মিলবে না।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ‘রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ইনসেনটিভ বোনাস নির্দেশিকা’ অনুসরণ বাধ্যতামূলক থাকবে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, পূর্বে যেসব ব্যাংক বছর শেষে বিভিন্ন ছাড় সুবিধার মাধ্যমে মুনাফা দেখিয়ে বোনাস বিতরণ করত, নতুন নিয়মে সেসব প্রতিষ্ঠানে বোনাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। শুধুমাত্র প্রকৃত মুনাফায় সফল, আর্থিকভাবে সুস্থ ব্যাংকগুলোই তাঁদের কর্মীদের উৎসাহ বোনাস দেওয়ার যোগ্যতা বজায় রাখতে পারবে।
ডেস্ক রিপোর্ট